ফ্রাঙ্ক ড্রুস

১ জানুয়ারি, ১৮৭৫ তারিখে লন্ডনের ডেনমার্ক হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খেলোয়াড়ী জীবনে জনপ্রিয় ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পান। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করে শেষ শতকে দারুণ ভূমিকা রাখেন। ১৮৯৪ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।

১৮৯৬ সালের মে মাসের শুরুতে কেমব্রিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে দারুণ খেলেন। জিওফ হার্স্ট, অ্যালেক হার্ন, লেজার হিল, স্ট্যানলি জ্যাকসনের ন্যায় জনপ্রিয় খেলোয়াড়সমৃদ্ধ সিআই থর্নটন একাদশের বিপক্ষে ২২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, ঐ মৌসুমে তিনি হ্যাম্পশায়ার ও ফিলাডেলফিয়া জেন্টলম্যানের বিপক্ষে আরও দুইটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক ১৮৯৭ সালের অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

১৮৯৭ থেকে ১৮৯৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট পাঁচ টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ড্রিওয়ে স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্য থেকে ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে মনোনীত হন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জর্জ হার্স্ট, জ্যাক ম্যাসনবিল স্টোরারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। 

১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৪ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই অংশ নিয়েছিলেন। প্রত্যেক ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন। তন্মধ্যে, ব্যাট হাতে নয়বার কমপক্ষে ১৫ রান করেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ টেস্টে মাত্র একবার অর্ধ-শতরানের সন্ধান পান। এছাড়াও, নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ১০৯ রান করেন। সহজাত দক্ষতায় সময় নিয়ন্ত্রণ করে সোজা বল থেকে অন-সাইড দিয়ে বলে আঘাত করতেন। পাশাপাশি, স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত  ফিল্ডিং করতেন।

অবশ্য, এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর ছিল না। ইতোমধ্যেই ১৮৯৫ সালে ফ্রাঙ্ক মিচেলের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে উত্তর আমেরিকা সফর করেছিলেন। বার্ট কিং ও ফিলাডেলফিয়ার জেন্টলম্যানের বিপক্ষে ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

যাইহোক, অস্ট্রেলিয়া সফরের পর ব্যবসায়িক জগতে চলে আসেন। এ পর্যায়ে খুব কমই ক্রিকেট খেলেন। মাঝে-মধ্যে এমসিসি ও ফ্রি ফরেস্টারের সদস্যরূপে অংশ নিতেন। ১৯১২ সালের শেষদিকে ফ্রি ফরেস্টারের সদস্যরূপে কেমব্রিজের অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস খেলে নিজের জাত চেনান।

২৭ অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে হ্যাম্পশায়ারের মিলফোর্ড অন সী এলাকায় ৭৯ বছর ২৯৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *