|

ফ্রাঙ্ক অ্যালান

২ ডিসেম্বর, ১৮৪৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার অ্যালান্সফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ক্যাঙ্গারু’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৮৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৮৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ বছর বয়সে মেলবোর্নে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। খেলায় তিনি ৫/৫৯ ও ৩/৪৩ নিয়ে দলের ৭ উইকেটের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

১৮৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আদর করে অনেকে ‘শতাব্দীর বোলার’ হিসেবে চিত্রিত করতেন। ১৮৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে লর্ড হ্যারিসের নেতৃত্বাধীন দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। অ্যালেক ব্যানারম্যান, ফ্রাঙ্ক অ্যালান ও হ্যারি বয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮০ বল থেকে ৮০ রান খরচ করে ৪ উইকেট দখল করেন। ২/৩০ ও ২/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপূর্বে ১৮৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ পর্যায়ে তিনি অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার বিষয়টি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের নিত্যসঙ্গী ছিল। তাসত্ত্বেও, লর্ডসে শক্তিধর ইংরেজ দলের ডব্লিউ. জি. গ্রেসের বিপক্ষে বোলিং উদ্বোধনের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম বলটি লেগ-স্ট্যাম্পের বাইরে বাঁক খেয়ে যাবার পথে ব্যাট স্পর্শ করে চার রান দেন। পরের বলটি একই জায়গায় ফেলে কট আউটে বিদেয় করেন। পরবর্তীকালে ডব্লিউ. জি. গ্রেস তাঁকে ‘সেরা দূর্বোধ্য বোলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আঘাতের কারণে হিমশিম খেলেও ২১৭ উইকেট পেয়েছিলেন।

অদ্ভূত ধরনের স্পিন বোলিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই মাত্র এক টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দশ বছরে ২৭ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে তেরোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৮৭৬-৭৭ মৌসুমের প্রথম টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন। তবে, কৃষিবিষয়ক প্রদর্শনীতে উপস্থিতির বিষয়টিতেই প্রাধান্য দেন।

উইজডেনে তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করা হয় যে, অনেক সেরা অস্ট্রেলীয় বোলারদের তালিকা তিনি রয়েছেন। ক্রিকেটের বাইরে বন্দুকচালনা ও মৎস্যশিকার করতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৮৮০ সালে মেরি এমা মবে নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ৬৮ বছর বয়সে এসেও ক্রিকেটের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করেছিলেন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯১৭ তারিখে মেলবোর্নের বোলিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেখানে তিনি শীতলতা অনুভব করেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পান। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেলবোর্নের মিস গার্লিকস প্রাইভেট হাসপাতালে তাঁকে প্রেরণ করা হয়। অতঃপর, ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৭ তারিখে মেলবোর্নের ফ্লিন্ডার্স লেন এলাকায় ৬৭ বছর ৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ভিক্টোরিয়ার বরুনডারা জেনারেল সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Similar Posts

  • |

    ওয়েন পার্নেল

    ৩০ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ‘পিজিয়ন’ কিংবা ‘পার্নি’ ডাকনামে ভূষিত ওয়েন পারনেল গ্রে হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১২…

  • | |

    ডেনিস লিলি

    ১৮ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। টেস্ট ক্রিকেটের কিংবদন্তী তারকা। বিশাল ব্যক্তিত্ব এবং শুধুমাত্র অস্ট্রলীয়দের মধ্যেই নয়, বৈশ্বিকভাবে বীর হিসেবে বিবেচিত হয়ে…

  • |

    ব্রুস মরিসন

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ তারিখে ওয়েলিংটনের লোয়ার হাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে স্থানীয় ক্লাব দল হাট ভ্যালির পক্ষে খেলতেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখেন। ২০ বছর বয়সে ওয়েলিংটনের পক্ষে প্রথমবারের মতো…

  • |

    জসুভাই প্যাটেল

    ২৬ নভেম্বর, ১৯২৪ তারিখে গুজরাতের আহমেদাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অফ-স্পিন বোলিং করতেন। তবে, মিহির বসু তাঁকে সিম সহযোগে বোলিং করার কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯৪৩-৪৪ মৌসুম থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • |

    রিচার্ড জোন্স

    ২২ অক্টোবর, ১৯৭৩ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের পক্ষে খেলেছেন। অকল্যান্ড থেকে ওয়েলিংটনে চলে আসার পরপরই নিজেকে মেলে ধরেন। নিয়মিতভাবে ব্যাটিং করার সুযোগ পান ও…

  • |

    টিনো ময়োয়ু

    ৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে মনিকাল্যান্ডের আমটালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণ কর্মে এগিয়ে আসেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ও জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এরপূর্বেই অবশ্য প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পড়াশুনোয় মনোনিবেশ…