| |

ফয়সাল ইকবাল

৩০ ডিসেম্বর, ১৯৮১ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।

রক্ষণাত্মক জ্ঞান নিয়ে সাহসী স্ট্রোক খেলোয়াড় হিসেবে ফয়সাল ইকবালের সুনাম ছিল। সামগ্রীকভাবে তিনি পাকিস্তানের মাঝারিসারিতে বেশ ভালো খেলা উপহার দিতেন। কিশোর পর্যায়ের ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছেন। তবে, ব্যাটিং কিংবদন্তী জাভেদ মিয়াঁদাদের ভ্রাতৃস্পুত্র হিসেবেও তাঁকে বিরূপ সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশন, পাকিস্তান রিজার্ভস ও সিন্ধু দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সিলেট রয়্যালসের পক্ষে খেলেছেন।

২০০১ থেকে ২০১০ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২৬ টেস্ট ও ১৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুমে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে অকল্যান্ডে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইমরান ফারহাত, মিসবাহ-উল-হক ও মোহাম্মদ সামি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। পাল্টা আক্রমণে ৮৫ বলে ৮৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসে নিজের জাত চেনান। বিশেষতঃ শেন ওয়ার্নের বিপক্ষে পায়ের কারুকাজে দারুণ খেলেন। তবে, অপর অভিষেকধারী মোহাম্মদ সামি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৯৯ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

তবে, ঐ সিরিজের বাদ-বাকী খেলাগুলোয় এ ধারা বহমান রাখতে পারেনি। একই সফরের ১৫ মার্চ, ২০০১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।

এছাড়াও, একই মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায়ও নিস্প্রভতার পরিচয় দেন। দুই টেস্টে অংশ নিয়ে সফল হননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ঠিকই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। অবশেষে, ২০০৫-০৬ মৌসুমে পুণরায় তাঁকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। নিজ শহর করাচীতে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে আঘাতপ্রাপ্ত ইনজামাম-উল-হকের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে রক্ষণাত্মক ক্রীড়াশৈলী অবলম্বনপূর্বক নিজস্ব প্রথম ও একমাত্র শতরানের ইনিংস খেলেন এবং দলের জয়ে ভূমিকা পালন করেন।

কলম্বোতে পরবর্তী টেস্টে তাঁকে খেলানো হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেশ ভালো খেলেন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের বোলিং মোকাবেলা করে ৬০ রান তুলেন ও খেলাটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। এরপর, লর্ডস টেস্টেও একই মানের ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে শেষদিনে খেলাকে ড্র করাতে সক্ষম হন। এ সময়ে চার ইনিংসের তিনটিতেই অর্ধ-শতরান করে দৃশ্যতঃ পাকিস্তানের মাঝারিসারিতে স্থায়ী আসন গাড়েন।

এরপর, মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। বক্সিং ডে টেস্টে ৪২২ রানের পর্বতসম জয়ের সন্ধানে নেমে কেবলমাত্র অধিনায়কের সাথে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৪০-এর অধিক রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে, সিডনি টেস্টে পরাজয়ের পর তাঁরও বিদেয় ঘণ্টা বেজে উঠে। ১৭৭ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় তিনি মাত্র ৭ রান তুলতে সক্ষমতা দেখিয়েছিলেন।

২০০৯-১০ মৌসুমে মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ৬ ও ৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। এরপর, আর তাঁকে জাতীয় দলে খেলানো হয়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপরও তিনি নয় বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে বারো হাজারের অধিক রান তুললেও তাঁকে আর বিবেচনায় আনা হয়নি। কয়েকবার অবশ্য তাঁকে দলের সদস্য করা হয়। ২০১৩ সালে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে গমন করলেও তাঁকে কোন আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি।

২০১৮ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। করাচী কিংসের পক্ষে দুই মৌসুম ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

Similar Posts

  • | | |

    জবাগল শ্রীনাথ

    ৩১ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে কর্ণাটকের মহীশূরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১.৯১ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক…

  • |

    জিমি নিশাম

    ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯০ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালন করে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতার পরিচয় দেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিশ্রুতিশীল অল-রাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে খেলতে থাকেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে…

  • |

    জর্জ স্ট্রিট

    ৬ ডিসেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে সারের মুরস ফার্ম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৯ থেকে ১৯২৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯০৯ সালে প্রথমবারের মতো সাসেক্স দলের পক্ষে…

  • | |

    আজহার আলী

    ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। মজবুত কৌশল অবলম্বনে ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, মধ্য পাঞ্জাব, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, লাহোর,…

  • |

    শুভাশীষ রায়

    ২৯ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ২০১০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট অঙ্গনে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে চলেছেন। তবে, সমসাময়িক খেলোয়াড়দের তুলনায় জাতীয় দলে খেলার জন্যে বেশ সময় নিতে হয়েছে। মাশরাফি বিন মর্তুজা’র পদাঙ্ক অনুসরণে বাংলাদেশের…

  • | | |

    গুরুশরণ সিং

    ৮ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেছেন। দীর্ঘদিন পাঞ্জাব দলের অন্যতম ব্যাটিং…