|

ফাহিম আশরাফ

১৬ জানুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে পাঞ্জাবের কাসুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, শেষদিকের ওভারগুলোয় বামহাতে নিচেরসারির মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৮ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। তৌসিফ আহমেদের সান্নিধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রথমসারির খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, পাঞ্জাব ও সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্স লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা প্লাটুন ও ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের পক্ষে খেলেছেন।

২৩ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত ফয়সালাবাদ বনাম মুলতানের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক খেলায় শতক হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, ২০১৬-১৭ মৌসুমে ডিপার্টমেন্টাল ওয়ান ডে কাপে ১৯ উইকেট দখল করে শীর্ষস্থানীয় উইকেট শিকারীতে পরিণত হন।

২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। মার্চ, ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান দলে রাখা হয়। তবে, ঐ সফরে তাঁকে কোন খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত করা হয়নি। এরপর, ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের ওডিআই দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। প্রস্তুতিমূলক খেলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নেন। মাত্র ৩০ বল মোকাবেলা করে ৬৪ রান তুলে পাকিস্তানের দুই উইকেটের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। ১২ জুন, ২০১৭ তারিখে কার্ডিফে অনুষ্ঠিত ঐ প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর ওডিআই অভিষেক ঘটে। দিনেশ চণ্ডীমলকে বিদেয় করে প্রথম উইকেটের সন্ধান পান।

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে টি২০ খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২৭ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি২০ আন্তর্জাতিকে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। এরফলে পাকিস্তানের প্রথম ও বৈশ্বিকভাবে ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে টি২০আইয়ে হ্যাট্রিক লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হন।

এছাড়াও, জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। সিরিজের একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ২ উইকেট লাভসহ ২৩ রান তুলেছিলেন। একই সফরে পাকিস্তানের টি২০আই সিরিজ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এভাবেই পাকিস্তানের ওডিআই ও টি২০আই দলে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করে ফেলেন।

২০১৮ সালে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে আয়ারল্যান্ড গমন করেন। ১১ মে, ২০১৮ তারিখে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইমাম-উল-হকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৮৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৮ ও ০/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কেভিন ও’ব্রায়ানের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পায়।

২০২৩-২৪ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন। ১/৯৩ ও ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মিচেল মার্শের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩৬০ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

Similar Posts

  • | | |

    অরবিন্দ ডি সিলভা

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। পিতা স্যাম তাঁর উপযোগী বিদ্যালয় খুঁজে বের করতে বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। অবশেষে ডিএস সেনানায়েকে কলেজ আরআইটি অ্যালিসের অধ্যক্ষকে প্রথম গ্রেডে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। খুব…

  • | | |

    কেন রাদারফোর্ড

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৬৫ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেংয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, গটেং…

  • | |

    উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স

    ৭ ডিসেম্বর, ১৮৫৬ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের কালভার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম ছিল। সচরাচর তিনি থার্ড ম্যান কিংবা মিড-উইকেট বরাবর এলাকায় অবস্থান করতেন। কালভার্টনে জন্মগ্রহণ করলেও ক্রিকেটের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ডে খুব ছোটবেলায় চলে যান। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে…

  • |

    ম্যাথু হামফ্রেস

    ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। নর্দার্ন নাইটসের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরে কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে জাতীয় দলে…

  • | |

    অ্যান্ড্রু স্টডার্ট

    ১১ মার্চ, ১৮৬৩ তারিখে কো ডারহামের সাউথ শীল্ডসের ওয়েস্টো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। উভয় ক্রীড়াতেই দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মদ ব্যবসায়ীর সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সাথে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় চলে…

  • |

    প্রবীণ আম্রে

    ১৪ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শচীন তেন্ডুলকর ও বিনোদ কাম্বলি’র প্রশিক্ষক রামাকান্ত আচরেকরের তীক্ষ্ণ নজরে ছিলেন। আকস্মিকভাবেই ক্রিকেটের সাথে পরিচিত হন। শৈশবকাল থেকেই সুপরিচিত শিবাজী পার্কে…