| |

ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল

১ মার্চ, ১৮৮৮ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের র‍্যাটবি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯০৬ থেকে ১৯৩৯ সময়কাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনেকগুলো মৌসুম দলের সেরা অল-রাউন্ডারের অন্যতম হিসেবে মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁর সময়কালে লিচেস্টারশায়ার দল সেরাদের কাতারে ছিল না। তবে, জর্জ গিয়েরি’র সাথে শীর্ষে অবস্থানের প্রশ্নে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯৩৫ সালে ৫০ বছরের মধ্যে যে-কোন কাউন্টির প্রথম পেশাদার অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৪৭ বছর।

১৯০৬ সালে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। পরের কয়েক বছর মিডিয়াম-পেস বোলিংয়ে সফলতার সাথে সময় অতিবাহিত করেন। তবে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কয়েক বছর পূর্ব থেকে বল হাতে খেঁই হারিয়ে ফেলেন। বিশ্বযুদ্ধকালীন মেশিন গান কোরে যুক্ত ছিলেন। ক্রিকেট খেলা পুণরায় শুরু হলে বোলিংয়ের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসেন।

১৯২১ থেকে ১৯২৬ ও ১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ‘ডাবল’ লাভ করেন। ১৯২৭ সালে ১০০ উইকেটের সন্ধান না পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সুযোগ পান।

১৯২৭ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেক টেস্টেই তাঁর উপস্থিতি ছিল। ম্যাটিং উইকেটে তুলনামূলকভাবে ভালো বোলিং করেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়ালি হ্যামন্ড, জিওফ্রে লেগ, ইয়ান পিবলস, রনি স্ট্যানিফোর্থ ও বব ওয়াটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। খেলায় তিনি ০/১১ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৩১ ডিসেম্বর, ১৯২৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ডিপিবি মরকেলকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি ২৫ ও ৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে সিরিল ভিনসেন্টের বলে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৩২ ও ৩/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৮৭ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২১ জানুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮ ও ২/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এগুলোই তাঁর স্বর্ণালী সময় ছিল। এরপর, অস্ট্রেলিয়া কিংবা ঐ দেশ সফরের জন্যে তাঁকে বিবেচনায় আনা হয়নি। দেশে অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হলেও বড় ধরনের আসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, বেশ কয়েকটি সফরে অংশ নিয়েছিলেন। ব্যক্তি পরিচালনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যান।

পরবর্তীতে, ১৯২৮-২৯ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল টেস্ট মর্যাদা পেলে দলটির বিপক্ষে চার টেস্ট খেলেন। প্রকৃতপক্ষে ক্যারিবীয় পিচে তাঁর বোলিং মোটেই সুবিধে করতে পারেনি। এছাড়াও, তিনি ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৯ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৩ ও ১/১০৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এছাড়াও, ১৯২৬-২৭ মৌসুমে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ক্রিকেটের বাইরে বিলিয়ার্ডস খেলোয়াড় হিসেবেও দারুণ খেলতেন। ট্রিক শর্টসের কারণে পরিচিতি লাভ করেন। কণ্ঠস্বরেও দারুণ সফল ছিলেন। প্রতিষ্ঠিত গায়ক ও সুরকার ছিলেন।

১৯৩৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ৬০তম জন্মদিনের তিন সপ্তাহ পূর্বে ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে লিচেস্টারের স্টোনিগেট এলাকার হাসপাতালে ৫৯ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ওয়েলফোর্ড রোড সিমেট্রিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Similar Posts

  • | |

    টাইগার স্মিথ

    ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের হাইগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্যাডবারিতে তিনি কাজ করতেন। এক পর্যায়ে কর্মকালীন দূর্ঘটনায় তাঁর দুই আঙ্গুলের ঊর্ধ্বাংশ কাটা পড়ে। তাসত্ত্বেও, তাঁকে ওয়ারউইকশায়ারের উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্যে আমন্ত্রণ…

  • |

    রয় মিলার

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সংক্ষিপ্ত…

  • | | |

    ওয়ারেন বার্ডসলি

    ৬ ডিসেম্বর, ১৮৮২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নেভারটায়ার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ বামহাতি ব্যাটসম্যানের পরিচিতি লাভ করেছেন। কেবলমাত্র দুই স্বদেশী স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ও এএল হ্যাসেট তাঁর সংগৃহীত ৫৩টি প্রথম-শ্রেণীর শতককে…

  • | |

    নীল ব্র্যান্ড

    ১২ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে গটেংয়ের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। টানটনভিত্তিক কিংস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে টাইটান্সের প্রতিনিধিত্ব…

  • | | | |

    কৃষ শ্রীকান্ত

    ২১ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ভারত ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যুৎ প্রকৌশলী হিসেবে শিক্ষালাভ করেন। চেন্নাইভিত্তিক গুইন্ডির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন তিনি। সহজাত প্রকৃতির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও অতিদ্রুততার সাথে ভারসাম্য বজায়…

  • | | |

    মাঙ্কি হর্নবি

    ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৭ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্রুক হাউজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংরেজ ক্রিকেটের ভিত্তি আনয়ণে অনন্য সাধারণ ভূমিকা রাখেন। ‘দ্য বস’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। সর্বদাই সামনের পায়ে ভর রেখে ড্রাইভ মারতেন কিংবা অফ-সাইডে বল ফেলতেন।…