৪ জুলাই, ১৮৯৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ম্যালভার্ন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী ও মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯২০-২১ মৌসুম থেকে ১৯২১-২২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাত্র দুই মৌসুম খেলেছিলেন ও নিজেকে কখনো মেলে ধরতে পারেননি। তবে, ১৯২০-২১ মৌসুমে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত নিজস্ব প্রথম খেলায় গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে ২৪০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ঐ মৌসুমের কারি কাপে আরও একটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। নয় খেলায় অংশ নিয়ে দুই শতক সহযোগে ৪১ গড়ে ৬৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় মিডিয়াম বোলিং করে ৩০.৯২ গড়ে ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সবকটি টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বুস্টার নুপেন, চার্লি ফ্রাঙ্ক ও উইলিয়াম লিংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নেন। অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় ইনিংসে ম্যাককার্টনিকে কট বিহাইন্ডে বিদেয় করেছিলেন। ৫৩ মিনিটে ২৮ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রক্ষা করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

ওল্ড ওয়ান্ডারার্সে ৩/৮৫ পান। ফলো-অনের পর দলের সংগ্রহ ৭৯/৪ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। ৭২ মিনিটে পাঁচ চারের মারে ৩৬ রান তুলেন। এ খেলায়ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল ড্র করতে সক্ষম হয়। নিউল্যান্ডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ১৬ রান তুলেছিলেন। এ খেলায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পায়।

তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে খুব কমই সফলতার সন্ধান পেয়েছিলেন। ২০.৯৩ গড়ে ১২৫ রান ও ৩৬ গড়ে ৪ উইকেট দখল করেছিলেন। একই সফরের ২৬ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অনেকাংশে হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় আকস্মিকভাবেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন থেমে যায়। জীবনের শেষ দিনগুলোয় ডারবানে বসবাস করতেন। ইস্ট র‌্যান্ডে খনিতে চাকুরী নেন। এ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেতেন না। কার্যতঃ তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। ঐ মৌসুমে নাটালের বিপক্ষে নিজ শহরে আর একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ০ ও ২৩ রান সংগ্রহসহ ২ উইকেট পান। পরের মৌসুমে ইংরেজ দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এলে বেনোনিতে ইস্ট র‌্যান্ডের সদস্যরূপে এমসিসি’র বিপক্ষে ২ ও অপরাজিত ১৩ রান তুলেন। তবে, খেলাটি প্রথম-শ্রেণীর মর্যাদা পায়নি। এটিই তাঁর সর্বশেষ খেলা ছিল।

২ জুন, ১৯৭৪ তারিখে নাটালের ডারবানে ৭৮ বছর ৩৩৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট