|

এডউইন ইভান্স

২৬ মার্চ, ১৮৪৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের এমু প্লেইন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে স্লো বোলিং কিংবা ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

চমৎকার অফ-স্পিনার হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন। মূলতঃ ধৈর্য্য ও নিখুঁত বোলিংয়ের দিকে গুরুত্ব আরোপ করতেন। যেখানে বল ফেলতে চাইতেন, ঠিক প্রায় সেখানেই বল ফেলতে পারতেন। ১৮৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৮৮২ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হিউ ম্যাসি, জর্জ গিফেন ও উইলিয়াম কুপারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮১ ও ০/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

টেস্ট ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলায় অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে জোই পালমারের সাথে জুটি গড়ে ইংল্যান্ড দলকে ১৩৩ রানে গুটিয়ে দেন। চার-বল নিয়ে গড়া ১১৫ ওভার নিরবিচ্ছিন্নভাবে তাঁরা বোলিং করেছিলেন। এটিই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম ঘটনা হিসেবে দুইজন বোলার ব্যবহৃত হয়েছিলেন।

১৮৮৬ সালে টাপ স্কটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে কেবলমাত্র একবারই ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ততোদিনে তিনি তাঁর স্বর্ণালী সময় ফেলে এসেছিলেন। ত্রিশের বয়সে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন। ইংল্যান্ড সফরে যান। ১২ আগস্ট, ১৮৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৯* ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২১৭ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ৪৭.৪২ গড়ে মাত্র সাত উইকেট পেয়েছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে যথেষ্ট সফলতার সন্ধান পেলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেলে ধরতে পারেননি। এরফলে, তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ততর হয়ে পড়ে ও তেমন সফল হননি। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি এনএসডব্লিউ’র জন্যে শাপে বর নিয়ে আসে। ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেকগুলো বিজয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। ত্রিশের বয়সের শেষদিক পর্যন্ত পেশাদারী পর্যায়ে খেলেন।

২ জুলাই, ১৯২১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়ালগেট এলাকায় ৭২ বছর ৯৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট