মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে র্যান্ডফন্তেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্রিকেট খেলায় সর্বদা ভাগ্য তাঁর সুপ্রসন্ন হয়নি। ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলেছিলেন। তবে, হাঁটুর আঘাতের কারণে খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হন। এক পর্যায়ে হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রী লাভ করেন। তবে, পড়াশুনো শেষে ক্রিকেটের দিকে আবারও ঝুঁকে পড়েন। ২০১৫ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক এমভিপি হিসেবে নামাঙ্কিত হন। ২০১৬ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন।
২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে লায়ন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নর্থ ওয়েস্ট ও সাউথ আফ্রিকা এমার্জিং প্লেয়ার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৪ মার্চ, ২০১১ তারিখে পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত নর্থ ওয়েস্ট বনাম কোয়াজুলু-নাটালের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। নর্থ ওয়েস্টের পক্ষে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিস্ময়করভাবে ঐ খেলায় অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতায় হাইভেল্ড লায়ন্সের পক্ষে খেলেন।
২০১৫ সালের আফ্রিকা টি২০ কাপে নর্থ ওয়েস্ট ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলেন। টি২০ গ্লোবার লীগের প্রথম মৌসুম খেলতে কেপটাউন নাইট রাইডার্স দলে অন্তর্ভূক্ত হন। তবে, এ প্রতিযোগিতাটি বাতিল হয়ে যায়। সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকার ওডিআই দলে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৮ সালের মজানসি সুপার লীগ টি২০ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে জজি স্টার্সের সদস্য হন।
২০১৬ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ তারিখে বেনোনিতে অনুষ্ঠিত সফররত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় তিনি ১/১৯ লাভ করেছিলেন। দলের ২০৬ রানের বিজয়ে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি। অভিষেকের অল্প কিছুদিন পরই ২১ জুন, ২০১৭ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন।
এপ্রিল, ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০১৯-২০ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। রাসি ফন ডার ডাসেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩৩ ও ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২৩ ও ১/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কুইন্টন ডি ককের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩৭ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩৪ ও ২/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় মার্ক উডের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৯১ রানে পরাভূত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
