৬ জুন, ১৯৭২ তারিখে কালুতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাব ও কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন।
১৯৯২ থেকে ২০০১ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ আগস্ট, ১৯৯২ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। শুধুমাত্র জাতীয় দলে অংশ নিয়েই নিজেকে স্বান্তনা দিতে পারেননি। ঐ একই খেলায় বিখ্যাত বোলার মুত্তিয়া মুরালিধরনেরও একযোগে অভিষেক হয়েছিল। নিজস্ব তৃতীয় বলে টম মুডি’র উইকেট লাভ করেন। এরপর, অ্যালান বর্ডার ও ডেভিড বুন তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ৩/৬৬ ও ০/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডিন জোন্সের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরের দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। এ পর্যায়েও তিনি তাঁর উদীয়মানতার ধারা অব্যাহত রাখেন। তবে, অপর স্পিনারদের আধিপত্যে তিনি ঐ সিরিজে সাতটি উইকেট দখল করতে পেরেছিলেন।
আঘাতের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়। ১৯৯৭ সালে ওডিআই দলে ফিরে আসলেও আর পূর্বের খেলার ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। এ পর্যায়ে আরও সাতটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত উইলস কোয়াড্রাঙ্গুলার প্রতিযোগিতায় পুণরায় আঘাতপ্রাপ্তিতে খেলাকে বিদেয় জানাতে বাধ্য হন।
কোল্টস সিসি’র পক্ষে সুন্দর খেলা প্রদর্শন করলে আগস্ট, ২০০১ সালে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ঐ বছর নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৯ আগস্ট, ২০০১ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০/৩২ ও ০/১২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৭৭ রানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
শুরুরদিকে তাঁর মাঝে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর লক্ষ্য করা যায়। ঐ পর্যায়ে তিনি ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। নিখুঁতমানের নিশানা বরাবর বোলিংয়ের পাশাপাশি বলকে ঘুরাতে পারতেন। তবে, এ ধরনের সফলতা মূলতঃ উপযোগী পিচেই নিজেকে মেলে ধরতে পারতেন।
প্রকৃত মানসম্পন্ন বোলিং অল-রাউন্ডার হিসেবে দীর্ঘ সংস্করণের খেলাগুলোয় অংশ নিতেন। তেমন দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার না হলেও সফলতম ফাস্ট বোলারের গুণাবলী বিদ্যমান ছিল। ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ছিলেন। নিজেকে সমৃদ্ধ করতে বেশ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে, টেস্ট ও ওডিআই নিয়ে গড়া সংক্ষিপ্ত আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে তা তুলে ধরতে পারেননি।
