১৩ জুন, ১৯০৫ তারিখে সৌরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সৌরাষ্ট্রের রাজপরিবারে তাঁর জন্ম। কেএস রঞ্জিতসিংজী’র ভ্রাতৃষ্পুত্র ছিলেন। ইংল্যান্ডে তিনি সেরা খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। এক পর্যায়ে তাঁকে কেএস রঞ্জিতসিংজী’র পদাঙ্ক অনুসরণ করতে দেখা যায়। ১৯২০-এর দশকে কিশোর অবস্থায় ইংল্যান্ডে চলে যান। ১৯২১ সালে চেল্টনহাম কলেজের পক্ষে প্রথম খেলায় অংশ নেন। পরবর্তী বছরগুলোয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়ান। এছাড়াও, চমৎকার লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। চেল্টনহামের পক্ষে নিজস্ব প্রথম খেলায় শুধুমাত্র ৭৬ রান তুলেই ক্ষান্ত হননি। এছাড়াও, ৭/৩৫ বোলিং করেছিলেন। উইজডেনে তাঁর স্মরণে বলা হয় যে, ১৯২২ সালে বিস্ময়কর ১৩.৬৬ গড়ে ৫০ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯২৪ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হিন্দু ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯২৫ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্লুধারী হন।
১৯২৯ থেকে ১৯৩১ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে তিন শতক সহযোগে ৫৮.৫২ গড়ে ৯৯৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯২৯ সালে নিজ দেশে নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ১৯২৯ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। টম কিলিকের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১২ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪৯ ও ৩৩* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। তিনি ৪০ ও ৫৬* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, একই সফরের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১১৭ রান সংগ্রহ করে অভিষেকধারী সিরিল অলকটের বলে কটএন্ডবোল্ডে বিদেয় নেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথম দুই দিন বৃষ্টিবিঘ্নিত হলে চতুর্থ টেস্টের আয়োজন করা হয়।
তবে, নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে নিজের সেরা খেলা প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ক্রাইস্টচার্চের ল্যাঙ্কাস্টার পার্কের ব্যাটিং অনুপযোগী পিচে কোন দল ২০০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেনি। ৪৯ ও ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ঐ খেলায় তাঁর দল জয়লাভ করে।
১৯৩০ সালের অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের সন্ধান পান। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেন। কেবলমাত্র অপর ক্রিকেটার মরিস টেট ৫৪ রানের অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ ঐ খেলায় ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের ২৫৪ রানের ইনিংসের কারণে তাঁর সংগ্রহটি ম্লান হয়ে পড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮ রান করলেও অস্ট্রেলিয়া দল খুবই স্বাচ্ছন্দ্যে সাত উইকেটের জয় তুলে নেয়।
১৯৩১ সালে নিজ দেশে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করে ১০৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৫ আগস্ট, ১৯৩১ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঐ টেস্টটি শেষদিনের শেষ বিকেলে শুরু হয়েছিল। খেলার একমাত্র ইনিংসে ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ছিলেন। এরফলে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ বেশ সীমিত পর্যায়ের ছিল। ১৯৩০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। নিজের সেরা দিনগুলোয় চমৎকার ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। কিন্তু, স্বাস্থ্যগত কারণে খেলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়ায় আক্রান্ত হলে ৫৪ বছর ১৭৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।
