১২ নভেম্বর, ১৯১০ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, লেখক ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতে পারতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাসূলভ স্ট্রোকপ্লে মারতেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৩১ সালে নাটালের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। খুব দ্রুত নিজেকে অসাধারণ ব্যাটসম্যান হিসেবে চিত্রিত করতে সচেষ্ট হন। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নাটালের সদস্যরূপে ট্রান্সভালের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৬০ রানের ইনিংস খেলেন।

১৯৩৫ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৩৪ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনবার ইংল্যান্ড সফর করেছেন। প্রথমটি ১৯৩৫ সালে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হার্বি ওয়েড, চাদ ল্যাংটন, ডেনিস টমলিনসন, এরিক রোয়ান ও বব ক্রিস্পের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি আমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা বেশ ধীরলয়ে শুরু করেন। লর্ডস টেস্টেও সুবিধে করতে না পারায় তাঁকে মাঠের বাইরে রাখা হয়। তবে, শেষ দুই টেস্টে ২৯, অপরাজিত ৫৩, ৩২ ও ৩৪ রান তুলেন। এ সফরে ১৬৮১ রান তুলে ই.এ.বি. রোয়ানের পর অবস্থান করেন। উপর্যুপরী তিনটি শতরানের ইনিংস খেলেন। এ বছরই তাঁর পিতা ডেভ নোর্স প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন।

১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৩ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৩০ ও ৯১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, জোহানেসবার্গ টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৮৯ মিনিটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৩১ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, স্ট্যান ম্যাককাবে’র ১৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের কল্যাণে তাঁর এ সাফল্য ঢাকা পড়ে যায়। এ সিরিজে ৫৮ গড়ে ৫১৮ রান তুলেন।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অসীম সময়ের ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় ঘণ্টা সময় নিয়ে ১০৩ রান তুলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৪৭ সালে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। নটিংহাম টেস্টে দলীয় অধিনায়কের সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩১৯ রান তুলেন। পরবর্তীতে, ১৯৮০-এর দশকে বিল এডরিচডেনিস কম্পটন তাঁদের সংগ্রহকে ছাঁপিয়ে যান।

একই সফরের ৫ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২৩ ও ১১৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে-পড়ে দলের দূর্বলতর ক্রীড়াশৈলীর কারণে তাঁর সাফল্য অনেকাংশেই ম্লান হয়ে পড়েছিল। বিশ্বযুদ্ধে তিনি আঘাত পান। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ জানুয়ারি, ১৯৫০ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৬৬ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫১ সালে স্প্রিংবকের নেতৃত্বে থেকে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ১৯৫১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২০৮ রান সংগ্রহ করে রান-আউটে বিদেয় নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আঘাতের কারণে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারেননি। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৭১ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯৫১ তারিখে লন্ডনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ৪ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হন।

সর্বমোট ১৫ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন। রান সংগ্রহের পাশাপাশি ফিল্ডার হিসেবেও দূরন্ত ভূমিকা রাখতেন। টেস্টগুলো থেকে নয় শতক সহযোগে ৫৩.৮১ গড়ে ২৯৬০ রান পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫১.৫৩ গড়ে ১২৪৭২ রান তুলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কয়েক বছর জাতীয় দল নির্বাচক ও দলীয় ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৬০ সালে ডি.জে. ম্যাকগ্লিউ’র নেতৃত্বাধীন দলকে নিয়ে ব্যবস্থাপক হিসেবে ইংল্যান্ডে যান। ১৯৪৯ সালে স্বীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘ক্রিকেট ইন দ্য ব্লাড’ প্রকাশ করেন। ১৯৫২ সালে সাউথ আফ্রিকান অ্যানুয়েল কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন।

১৪ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে নাটালের ডারবানে নিজ গৃহে ৭০ বছর ২৭৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    ওয়াল্টার রবিন্স

    ৩ জুন, ১৯০৬ তারিখে স্টাফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধের পূর্বে স্টাফোর্ডশায়ারের পক্ষে অংশগ্রহণকারী পিতা ও পরবর্তীতে ল্যাঙ্কাশায়ারের সাবেক পেশাদার ক্রিকেটার আলবার্ট নাইটের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন।…

  • | |

    জ্যাক ব্ল্যাকহাম

    ১১ মে, ১৮৫৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ‘উইকেট-রক্ষকদের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঊনবিংশ শতকের শুরুরদিকে ক্রিকেটকে মহীয়ান করে গেছেন। দূর্দান্তভাবে ও দক্ষতার সাথে উইকেট-রক্ষণ…

  • |

    ক্ল্যারি গ্রিমেট

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৮৯১ তারিখে ডুনেডিনের ক্যাভারশাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রিচার্ড জেমস গ্রিমেট ও মেরি দম্পতির সন্তান ছিলেন। এক পর্যায়ে পরিবারটি ওয়েলিংটনে চলে যায়। সেখানকার মাউন্ট কুক বয়েজ স্কুলে…

  • | | |

    নাইমুর রহমান

    ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে রাজধানী ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা মানিকগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছে। খ্যাতনামা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথমদিকের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঐ সময়ে বিকেএসপি থেকে বের হয়ে আসা শিক্ষার্থীদের খেলাধূলায় অংশগ্রহণে অনিশ্চিত থাকলেও পেশাদারী…

  • | |

    শাহরিয়ার নাফিস

    ১ মে, ১৯৮৫ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের মাঝে অসাধারণতার পরিচয় দিয়েছেন। মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যানের সন্ধানে ব্যস্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে আদর্শ প্রতীক হিসেবে তিনি নিজেকে উপস্থাপিত করেছিলেন। স্বল্প সময়ের জন্যে টাইগারদের সর্বাপেক্ষা ধারাবাহিক খেলোয়াড় হিসেবে…

  • | | |

    ডেভ গিলবার্ট

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডার্লিংহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে সিডনি প্রথম গ্রেডে প্রথমবারের মতো খেলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…