|

ডোনাল্ড তিরিপানো

১৭ মার্চ, ১৯৮৮ তারিখে জিম্বাবুয়ের চতুর্থ বৃহত্তম শহর মুতারে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতার সাথে খেলা শিখতে অগ্রসর হয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, এক পর্যায়ে মাউন্টেনিয়ার্স দলে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ইস্টার্নস ও মাউন্টেনিয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৪ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত ইস্টার্নস বনাম ওয়েস্টার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। পরবর্তীতে, জাতীয় দলের পক্ষে সকল স্তরের খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ছয় ফুটের অল্প কম উচ্চতা নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন ও মাঝে-মধ্যেই ঘণ্টাপ্রতি ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে বল ছুঁড়েন।

দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে বল হাতে নিয়ে কেবলমাত্র নিখুঁততা আনয়ণের মাধ্যমেই সফল হয়েছিলেন। এপ্রিল, ২০১৮ সালে নিজস্ব ৬৮তম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় ২০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অনুকূল পরিবেশে বলে সুইং ও সিম আনয়ণে দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। এছাড়াও, সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে কাটার প্রয়োগে সক্ষম।

ব্যাটিংয়েও নিজেকে মেলে ধরেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইটি শতক হাঁকিয়েছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমের লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় মাউন্টেনিয়ার্সের পক্ষে শীর্ষ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় অবস্থান করেন। মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নামেন।

২০১৪ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৮ জুলাই, ২০১৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। নিজস্ব তৃতীয় ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট নিয়ে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা কুড়াতে সক্ষম হন। খুব শীঘ্রই নতুন বল নিয়ে স্বীয় যোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে তৎপরতা দেখান।

২০১৪ সালে নিজ দেশে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে জন নিয়ুম্বু’র সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দুই উইকেট দখল করেন। খেলায় তিনি একবার বল হাতে নিয়ে ৬৫ রান খরচায় এ সাফল্য পান। এছাড়াও, ১৫* ও ৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অভিষেক ঘটা ডেন পাইতের বোলিং কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল। এছাড়াও, জাতীয় দলের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটেও নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

বলে নিখুঁতভাব বজায় রাখার পাশাপাশি সুইং ও সিম আনয়ণের অপূর্ব সমন্বয় করে সফলতা পেয়েছেন। নভেম্বর, ২০১৬ সালে কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওভারে তিন রানে ফলাফল নির্ধারণী খেলায় তিন উইকেট পান ও দম বন্ধ করা টাইয়ে পরিণত করেন। ১৪ মার্চ, ২০২১ তারিখে আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে দারুণ খেলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঐ টেস্টে শন উইলিয়ামসের সাথে ১৮৭ রানের জুটি গড়েন।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের অধিনায়কত্বে ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে গুদাকেশ মোতি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪ রানের ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়াও, দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। ব্যাট হাতে নিয়ে ২৩* ও ০ রান তুলেন। একটি ক্যাচ তালুবন্দী করলেও ২৬ রান খরচায় কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। জিম্বাবুয়ে মহিলা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ও পরবর্তীতে অধিনায়ক চিপো মুগেরি’র সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির এক কন্যা রয়েছে। অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক ও উইকেট-রক্ষক অ্যালিসা হিলি’র ন্যায় তাঁরাও একত্রে অনুশীলন কর্ম সম্পন্ন করেন।

Similar Posts

  • |

    সিরিল পুল

    ১৩ মার্চ, ১৯২১ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ফরেস্ট টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শৈশবকালে তাঁর মাঝে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জিলিংহামের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪১ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে…

  • | | |

    ডেভ গিলবার্ট

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডার্লিংহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে সিডনি প্রথম গ্রেডে প্রথমবারের মতো খেলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • | |

    স্টুয়ার্ট ব্রড

    ২৪ জুন, ১৯৮৬ তারিখে নটিংহামে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করছেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে থাকেন। ইংল্যান্ড দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ব্রডি’ ডাকনামে পরিচিত স্টুয়ার্ট ব্রড ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। ওকহাম স্কুলে…

  • |

    এনামুল হক, ১৯৮৬

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলা সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। লাফিয়ে ও মিতব্যয়ী বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের…

  • |

    হরভজন সিং

    ৩ জুলাই, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে অবদান রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। সরদার সরদেব সিং প্লাহা ও অবতার কৌর দম্পতির সন্তান ছিলেন। ভারতের অন্যতম সেরা অফ-স্পিনারের মর্যাদা পেয়েছেন।…

  • | | |

    নীল হার্ভে

    ৮ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১.৭২ মিটার উচ্চতার অধিকারী। পরিবারের ছয় পুত্র সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন। জ্যেষ্ঠ তিন ভ্রাতা ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অংশ নিতেন। তন্মধ্যে, একজন মার্ভ…