| |

ডোনাল্ড নাইট

১২ মে, ১৮৯৪ তারিখে সারের সাটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ম্যালভার্নে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয় জীবনেই তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সময়কালে পাঁচ বছর বিদ্যালয় একাদশে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এ সময়ে ৪৬.৮৮ গড়ে ২৮৬০ রান তুলেন। তন্মধ্যে, শেষ দুই বছর দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি লর্ডসে পাবলিক স্কুলসের নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯১১ সালে এইচ.কে. ফস্টার একাদশের পক্ষে ২১১ রানের ইনিংস খেলে শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। পরের দুই বছর ওল্ড মালভার্নিয়ান্সের বিপক্ষে খেলায় ১২২ ও অপরাজিত ১৩৩ রান তুলেন। উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যালয় ক্রিকেটে বিস্ময়কর অর্জন হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছে। ১৯০৯ সালে ১৫ বছর বয়সেই সারের দ্বিতীয় একাদশে খেলে ৫৩ রান তুলেন। দুই মৌসুম পর সারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

প্রথম বছরেই অক্সফোর্ড ব্লুধারী হন। ১৯১১ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন তিনি। ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ সফলতার সন্ধান পান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে অন্যতম সেরা পরিচ্ছন্ন শৌখিন ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ক্রিজে বেশ রক্ষণাত্মক মনোভাব নিয়ে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং করে আদর্শ ব্যাটসম্যানের পরিচিতি গড়ে তুলেন। তবে, বিশ্বযুদ্ধের কারণে নিজের সেরা বছরগুলো ফেলে এসেছিলেন। এ সময়ে ওভালে একটি দ্বি-শতক হাঁকিয়েছিলেন।

১৯১৯ সালে সারের পক্ষে খেলে খেলায় ছন্দ ফিরিয়ে আনেন। সাতটি শতরানের ইনিংস খেলেন। দুইটি ছিল ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ও একই খেলায়। শীর্ষসারিতে জ্যাক হবসের সাথে দারুণ জুটি গড়েন। ঐ মৌসুম শেষে কাউন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন।

১৯২১ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে নিজ দেশে খেলেন। আর্থার ডিপারের সাথে উদ্বোধনী জুটি গড়েন। তবে, চার ইনিংস থেকে মাত্র ৫৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ২৮ মে, ১৯২১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্নেস্ট টিল্ডস্লে, পার্সি হোমস, টিচ রিচমন্ড ও ভ্যালেন্স জাপের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ টেস্টে পার্সি হোমসের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৩৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১০ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১১ জুন, ১৯২১ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর, আর তাঁকে ইংল্যান্ড দলে রাখা হয়নি। এছাড়াও, তিনি তাঁর স্বর্ণালী সময়টুকু ফেলে এসেছিলেন। ১৯২০ সালে হ্যাস্টিংসে ফিল্ডিংকালে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন।

১৯১৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। দৃশ্যতঃ ১৯২৪ সালের পর খেলার জগৎ থেকে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, এর তেরো বছর পর সারে দলের পক্ষে পুণরায় খেলার জন্যে আহুত হন। এ পর্যায়ে এসেও ধ্রুপদীশৈলী প্রদর্শন করে দুই ঘণ্টার কম সময় নিয়ে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় ৬৫ বছর ২৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    লেন বাটারফিল্ড

    ২৯ আগস্ট, ১৯১৩ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৬ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রসঙ্গতঃ এটিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে নিউজিল্যান্ডের টেস্টে প্রথম অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে নিজ…

  • |

    কুয়ান ম্যাকার্থি

    ২৪ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৫২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | | |

    ইয়ান চ্যাপেল

    ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার আনলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ফার্স্ট স্লিপ অঞ্চলে অবস্থান করে ফিল্ডিং করতেন। পাশাপাশি, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘চ্যাপেলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ভীতিহীন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি…

  • |

    মোহাম্মদ নিসার

    ১ আগস্ট, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে পাতিয়ালার মহারাজা…

  • |

    আর্থার ডলফিন

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৮৮৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের উইলসডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সুপরিচিত উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পাতিয়ালার মহারাজা একাদশের পক্ষে খেলেছেন। মূলতঃ পাতিয়ালা মহারাজা দলের কোচ হিসেবে মনোনীত…

  • |

    জর্জ থর্নটন

    ২৪ ডিসেম্বর, ১৮৬৭ তারিখে ইংল্যান্ডের স্কিপটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। স্কিপটন গ্রামার স্কুলে অধ্যয়নের পর এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অংশ না নিলেও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে…