|

ডন ব্রেনান

১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯২০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের একলেসহিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতে পারতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ব্রাডফোর্ড লীগে ডাউনসাইড দলে খেলেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পুরোটা সময় জুড়ে দলের নিয়মিত উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়েছেন। সচরাচর স্পিনারদের বল দক্ষতার সাথে আটকান। এ পর্যায়ে জনি ওয়ারডল, বব অ্যাপলইয়ার্ড ও এডি লিডবিটারের বল চমৎকারভাবে সামলিয়েছিলেন। খুব কমই স্ট্যাম্পিংয়ের সুযোগ নষ্ট করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র ১০.৪৯ গড়ে রান পেলেও তাঁর চেষ্টা বেশ প্রশংসিত হয়। এছাড়াও, ১১৫টি স্ট্যাম্পিংসহ ৩১৬ ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন।

১৯৫১ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ঐ বছর নিজ দেশে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ সফরকারীদের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজের শেষ দুই টেস্টে তারকা ক্রিকেটার গডফ্রে ইভান্সের পরিবর্তে খেলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে উভয় টেস্ট থেকে মাত্র একবার ডিসমিসাল ঘটানোর সুযোগ পান। ২৬ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। পিটার মে ও ফ্রাঙ্ক লসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রতিপক্ষ ৫৩৮ রান সংগ্রহ করলেও তিনি মাত্র একটি বাই রান দেন। এরপর, খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে পৌণে এক ঘণ্টা ক্রিজ আঁকড়ে থেকে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যায়ে ট্রেভর বেইলিকে সহায়তা করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকে।

একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯৫১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে মাইকেল মেলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে জিম লেকারের বলে স্ট্যাম্পিং করেন। এছাড়াও, ঐ খেলায় ২২টি বাই রান দেন। সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

নিয়মিত খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহারের কারণে ১৯৫১-৫২ মৌসুমে এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। তবে, সবগুলো টেস্টে ডিক স্পুনারকে উইকেট-রক্ষণে খেলানো হয়। তাসত্ত্বেও, মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংসে পরিণত হয়।

পারিবারিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকায় অনেকটা আগেভাগে ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তাসত্ত্বেও, ইয়র্কশায়ার কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। ৯ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ইকলি এলাকায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৬৪ বছর ৩৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    আর্থার জিলিগান

    ২৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৪ তারিখে লন্ডনের ডেনমার্ক হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক গুণে গুণান্বিত ছিলেন। পর্যাপ্ত পেস ও দম নিয়ে ফাস্ট…

  • | |

    জাস্টিন অনটং

    ৪ জানুয়ারি, ১৯৮০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পার্ল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পরবর্তীতে অফ-স্পিন বোলিং রপ্ত করেন। এরফলে, নিজেকে আরও কার্যকর ক্রিকেটারে পরিণত করেন। ‘রোডি’ ডাকনামে…

  • | |

    আর্নি হেইস

    ৬ নভেম্বর, ১৮৭৬ তারিখে লন্ডনের পেকহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। নিজের দিনগুলোয়…

  • |

    দানিশ কানেরিয়া

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্পিনার ছিলেন। শারীরিক গড়নের কারণে চমৎকার বাউন্স করতে পারতেন। বলকে তেমন শূন্যে না ভাসালেও উল্লেখযোগ্যভাবে বলকে বাঁক খাওয়াতে পারতেন। তবে,…

  • | | |

    বিজয় মেহরা

    ১২ মার্চ, ১৯৩৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তেমন সাফল্য না পেলেও শারীরিক সক্ষমতা ব্যতিরেকে মনেপ্রাণে যে-কোন পরিবেশে সংগ্রাম করে গেছেন। খেলোয়াড়ী…

  • |

    যোহন গুণাসেকেরা

    ৮ নভেম্বর, ১৯৫৭ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮৩ সালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও তিনটিমাত্র ওডিআইয়ে…