১৪ জানুয়ারি, ১৯২০ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
নিখুঁতমানসম্পন্ন ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলার ছিলেন। কিছুটা দেরীতে বলকে সুইং করাতে সক্ষম ছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন।
প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২১.৫৮ গড়ে ২৭৮টি উইকেট লাভ করেছেন। সবগুলোই সেন্ট্রাল ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে পেয়েছেন। এছাড়াও, ২২.১০ গড়ে ২১৬৬ রান তুলেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান।
১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। রে এম্রি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৮ ও ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪২ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, তিনি আর মাত্র তিন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৯ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একই দলের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কার্যকর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পূর্বতন ২৮ রান অতিক্রম করেন। নয় নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১ ও অপরাজিত ৬ রান তুলেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে এস রামাদিনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ব্যক্তিগত ছিল ২/৯৬। এরপর, প্রথম ইনিংসে ১/২০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে পনেরো ওভার বোলিং করে ৩/২২ লাভ করেন। এ সফলতা লাভের জন্যে নিউজিল্যান্ড দলকে ২৬ বছরে ৪৫ টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। খেলায় তাঁর দল ১৯০ রানে জয় পেলেও ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে চার টেস্ট থেকে ২০.২০ গড়ে ১০১ রান তুলেন। এছাড়াও, ৩৩.৫৫ গড়ে নয় উইকেট কব্জা করেন।
টি আরোহা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর ইংল্যান্ডে অবকাশযাপনকালে ১৫ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ল্যাঙ্কাস্টার এলাকায় ৬২ বছর ১৮২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ডেরেক বিয়ার্ড নামীয় সন্তান নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে আটটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিল।
