| |

ডন অনুরাসিরি

২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে পানাদুরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।

প্রায়শঃই নিশ্চল উইকেটে বোলিং করার জন্যে আমন্ত্রণ পেতেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে পানাদুরা স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্ট ও ৪৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ১৪ মার্চ, ১৯৮৬ তারিখে কলম্বোর সিসিসিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কোশলা কুরুপ্পারাচ্চি ও রোশন মহানামা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৪ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বাধিক সফলতম সিরিজ খেলেন। ঐ সিরিজে ১০ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সাথে মনোমালিন্য ঘটলে ধারণা করা হয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের দৃশ্যতঃ পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তবে, চার বছর পর বিস্ময়করভাবে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ব্যাটের বেশ বাইরে দিয়ে বলকে স্পিন করান। মুত্তিয়া মুরালিধরনের সাথে দারুণ বোলিং জুটি গড়েন। ৩/৬৫ ও ১/৪১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে দলের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অরবিন্দ ডি সিলভা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এরপর আরও তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণের ছয় সপ্তাহের মধ্যে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

অবিচলিত চিত্তে বামহাতে অর্থোডক্স স্পিন বোলিং করতেন। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন অনেকাংশে স্থির প্রকৃতির ছিল। ২০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। এরপর থেকে বেশ কয়েক মৌসুম দলে আসা-যাওয়ার পালায় ছিলেন। কিন্তু, কখনো দলে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়ে যেতে পারেননি। জাতীয় দলে খেলার আমন্ত্রণ পেলে নিজেকে মনেপ্রাণে বিলিয়ে দিতেন। তবে, টেস্ট পর্যায়ে তাঁর বোলিং তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি ও ক্ষুরধার ছিল না। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর কোন ইনিংসেই পাঁচ-উইকেট পাননি। নিখুঁতভাব বজায় রেখে বলকে শূন্যে ভাসিয়ে বাঁক খাওয়ানোসহ দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করতে পারতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

Similar Posts

  • | |

    গারেথ ব্রিস

    ৯ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে জ্যামাইকার মন্টেগো বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘ব্রিগি’ ডাকনামে ভূষিত গারেথ ব্রিস ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কিংস্টনভিত্তিক উলমার্স বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের রেড…

  • |

    কর্ষণ ঘাবরী

    ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিদ্যালয় জীবনে মূলতঃ স্পিন বোলিং করতেন। একদা অধিনায়ক আঘাত পেলে কোচ তাঁকে নতুন বল নিয়ে বোলিং করার পরামর্শ দেন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলাটিতে তিনি পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন।…

  • |

    পম পম ফেলোস-স্মিথ

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পম পম’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মারকুটে ও হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। লেগ-সাইডে সুইপ আনয়ণেও বৈচিত্র্যতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ইংরেজ পরিবেশে…

  • | | |

    ফারুক ইঞ্জিনিয়ার

    ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। দীর্ঘকায় ও মজবুত গড়নের অধিকারী তিনি। পাশাপাশি আগ্রাসী ব্যাটসম্যান ছিলেন এবং ক্ষীপ্রগতিতে উইকেট-রক্ষণে এগিয়ে আসতেন। ভারতের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে…

  • |

    ক্লিফোর্ড রোচ

    ১৩ মার্চ, ১৯০৪ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রক্ষণাত্মক ধাঁচে খেলতে ভালোবাসতেন। তবে, বোলার বরাবর বলকে ঠেলতেন। এমনকি নতুন বলেও এ ধারায় ব্যাটিং করতেন। দারুণ স্ট্রোক খেলতেন। শুরুতে মাঝারিসারির…

  • | |

    জ্যাক ফিঙ্গলটন

    ২৮ এপ্রিল, ১৯০৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়াভার্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ট্রাম কন্ডাক্টর জেমস ফিঙ্গলটন ও বেলিন্ডা মে দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ১৯১৩ সালে তাঁর পিতা নিউ সাউথ ওয়েলসের আইনসভায় ওয়াভার্লির…