|

ডিক ইয়ং

১৬ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দরবার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯০৫ থেকে ১৯২৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সব মিলিয়ে ১১টি শতরানের ইনিংস খেলেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২২০ রান তুলেছেন এসেক্সের বিপক্ষে। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৯ গড়ে ৬৬৫৩ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, ১৩৯ খেলা থেকে ১৪৪টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন।

উইকেট-রক্ষক ও দূর্দান্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। ‘ডিক’ ডাকনামে পরিচিত ডিক ইয়ং রেপ্টন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এখানে থাকাকালেই তাঁর মাঝে উদীয়মান ক্রিকেটারের যাবতীয় গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। এরপর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। এ পর্যায়ে তিনি নিজেকে আরও ক্ষুরধার করে তুলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯০৭-০৮ মৌসুমে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। উভয়ক্ষেত্রেই দলের প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দল। এও জোন্সের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯০৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জর্জ গান, জো হার্ডস্টাফকেনেথ হাচিংসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। স্নায়ুবিক দূর্বলতার কারণে ক্যাচ হাতছাড়া করেন ও নিশ্চিত রান-আউটে অংশ নিতে পারেননি। খেলায় তিনি ১৩ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া দল নাটকীয়ভাবে জয়ের ধারায় ফিরে আসে। সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯০৭-০৮ মৌসুমে ফ্রেডরিক ফেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৪৯ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। চার ইনিংস থেকে ২৭ রান তুলতে পেরেছিলেন। কাউন্টি ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেললেও অস্ট্রেলীয়দের আক্রমণের কোন জবাব দিতে পারেননি। এরপর আর তাঁকে দলে রাখা হয়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে ক্রিকেট ও ফুটবল – উভয় খেলায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আউটসাইড-রাইট অবস্থানে খেলতেন। কেমব্রিজ ও করিন্থিয়ান্সের পক্ষে ফুবল খেলেছেন। ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে হাঙ্গেরীর বিপক্ষে অংশ নিয়েছেন। এপর, অ্যামেচার এফএ’র সদস্যরূপে ফ্রান্সের মুখোমুখি হন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর গণিতের শিক্ষক ও এটনে ক্রিকেট শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১ জুলাই, ১৯৬৮ তারিখে সাসেক্সের হ্যাস্টিংস এলাকায় ৮২ বছর ২৮৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর ভ্রাতা জ্যাক সাসেক্সের পক্ষে খেলেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট