৩০ ডিসেম্বর, ১৯১৯ তারিখে কো ডারহামের থর্নবি-অন-টিজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এক দশকের অধিক সময় দলে থেকে ১৩৮৫১ রান সংগ্রহসহ ৭৬৭টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। বেশ দেরীতে খেলার জগতে প্রবেশ করেছেন। ২৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। তবে, এরপর থেকে পরবর্তী এক দশক দলের উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সচরাচর, ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন।
১৯৫১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী ওয়ারউইকশায়ার দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। অধিকাংশ খেলাতেই ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছিলেন। চার শতক সহযোগে ৪৩.০৯ গড়ে ১৭৬৭ রান তুলেন। ১৯৪৮ সাল থেকে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে বিখ্যাত উইকেট-রক্ষক গডফ্রে ইভান্সের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়।
১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয়সারির এমসিসি দলের সাথে ভারত সফরে যাবার সুযোগ পান। ২ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ডন কেনিয়ন, ডোনাল্ড কার, ফ্রেড রিজওয়ে ও নাইজেল হাওয়ার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ফলাফলবিহীন অবস্থায় সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে।
পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। বোম্বে টেস্টে ৪৬, কলকাতা টেস্টে ৭১ ও ৯২ এবং মাদ্রাজ টেস্টে ৬৬ রানের উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, কলকাতায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। এ সফরে ব্যাট হাতে নিয়েও যথেষ্ট ভালো খেলা উপহার দেন।
এরপর, গডফ্রে ইভান্সকে স্ট্যাম্পের পিছনে রাখা হয়। পরবর্তীতে, তিনি আরও দুই টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে পোর্ট অব স্পেন টেস্টে খেলেন। অপরটি, ১৩ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। ১৯৫৫ সালে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে খেলেন। ঐ বছর জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টটিতে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেন। গডফ্রে ইভান্সের আঘাতের কারণে বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রেভর গডার্ডের অস্বস্তিবোধ দলের পাল্টা কৌশল গ্রহণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। উভয় ইনিংসে হিউ টেফিল্ডের বলে জোড়া শূন্য লাভ করেন। তবে, কোন বাই-রান দেননি। ৯২ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
অবসর গ্রহণের পর ডেভনে মাঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতেন। ২০ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ডেভনে লয়েজ ব্রিজ এলাকায় ৭৭ বছর ৩৫৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
