১১ আগস্ট, ১৮৫৫ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের ওল্ড ওয়ার্ডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেডফোর্ডশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও নবজাতক অবস্থায় অ্যাক্রিংটনের কাছাকাছি চার্চে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। ১৮৭৭ সাল থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
আগস্ট, ১৮৭৭ সালে প্রথমবারের মতো ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ই. জ্যাকসন ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত হলে তিনি খেলার সুযোগ পান। এরপর থেকে ১৮৮৯ মৌসুম শেষ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান। ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঝে-মধ্যেই সফলতা এনে দিয়েছেন ও শেষবিন্দু পর্যন্ত লড়াকু চিত্তে খেলতেন।
ল্যাঙ্কাশায়ার ভিন্ন অন্য কোন কাউন্টির সাথে কোন যোগসূত্র স্থাপন করেননি। আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলায় £১,৫০০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন। সব মিলিয়ে ২৫০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।
১৮৮১ থেকে ১৮৮৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র আটটি টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুমে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার শ্রিউসবারি, টেড পিট, ডিক বার্লো, বিলি বেটস ও উইলিয়াম স্কটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি স্ট্যাম্পিং ও একটি ক্যাচ গ্লাভবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৮৮৭-৮৮ মৌসুমের শীতকালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও পূর্বের সফরের ক্রীড়াশৈলী বজায় রেখেছিলেন। ১৮৮৮ সালে নিজ দেশে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ইনিংস ও ২১ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। ১৮৯০ সালের শীতকালের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ফুটবল খেলায় অংশ নেয়ার পর গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রীষ্মের শেষে স্বাস্থ্যের উন্নতিকল্পে ইংল্যান্ড থেকে ফেরৎ আসা অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সহায়তায় একই স্টিমারে চড়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৮৯১ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। উইজডেনে তাঁকে জ্যাক ব্ল্যাকহামের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা দেয়। তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করা হয় যে, ‘বাহুল্যবর্জিত অবস্থায় পরিচ্ছন্নতা ও ক্ষীপ্রতা প্রদর্শন করেছেন।’
অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে আসার পর ২৮ মার্চ, ১৮৯১ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে মাত্র ৩৫ বছর ২২৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
