২১ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে উত্তরপ্রদেশের আগ্রা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে টেস্ট ও টি২০আই ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০২১-২২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশ ও বহিঃভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস ও ভারত ‘এ’ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে সুলতানপুরে বিদর্ভের বিপক্ষে খেলার মধ্য দিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
২০২২ সালের আইপিএলকে ঘিরে রাজস্থান রয়্যালস ₹২০ লক্ষ ভারতীয় রূপীর বিনিময়ে কিনে নেয়। তবে, ঐ মৌসুমে কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ২০২৩ সালে আইপিএলে প্রথম খেলেন। শেষের ওভারগুলো মারমুখী ব্যাটিংয়ে সকলকে মুগ্ধ করেন। ঐ মৌসুমে ১১ খেলা থেকে ২১.৭১ গড়ে ও ১৭২.৭২ স্ট্রাইক রেটে ১৫২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কমপক্ষে ১০০ রান সংগ্রহকারীদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে তাঁর অবস্থান ছিল সপ্তম।
২০২৪ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে বেন স্টোকসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে রাজকোটে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। সরফরাজ খানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি স্ট্যাম্পিং ও একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, রবীন্দ্র জাদেজা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৪৩৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এছাড়াও, একই সফরের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অপূর্ব খেলেন। ঐ টেস্টে ৯০ ও ৩৯* রানের ইনিংস খেলে দলকে পাঁচ উইকেটের জয় এনে দেন ও দলকে সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। সবমিলিয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের তিন টেস্টে অংশ নিয়ে ৬৩.৩৩ গড়ে ১৯০ রান সংগ্রহ করেন।
২০২৫ সালে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ৩১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ সিরাজের বল হাতে নিয়ে অপূর্ব বোলিং কৃতিত্বের কারণে স্বাগতিকরা নাটকীয়ভাবে ৬ রানে পরাভূত হলে সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়।
২০২৬ সালে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে ১১৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। তবে, সোনাল দিনুশা’র জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ফলো-অনের কবলে পড়লেও ড্র করতে সক্ষম হয়। পূর্বেকার টেস্টে জয়ের সুবাদে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২৭ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ইএসপিএনক্রিকইনফো’র ২০২৪ সালের সেরা সাতজন পুরুষ তরুণ অভিষেকধারীর পুরস্কারের জন্যে মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকায় আল্লাহ গজনফর, জ্যাকব বেথেল, নাহিদ রানা, নীতিশ কুমার রেড্ডি, অটনিল বার্টম্যান ও শামার যোসেফের সাথে তাঁকে রাখা হয়।
