৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কৌশলগতভাবে শীর্ষসারির, সঠিকমানসম্পন্ন আক্রমণধর্মী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। ব্যাটিং অল-রাউন্ডারের স্বীকৃতি পান। ডানহাতে অফ-স্পিন বোলিংয়েও পারদর্শীতা দেখিয়েছেন।
দেবারাউইয়া সেন্ট্রাল হাম্বানতোতা, মহানামা কলেজ কলম্বো ও গলেভিত্তিক রিচমন্ড কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব ও রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জাফনা স্ট্যালিয়ন্স, রুহুনা রয়্যালস, কন্দুরাতা ম্যারুনস ও শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশের পক্ষে খেলেছেন।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বেশ কিছু ভালোমানের খেলা উপহার দেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার আমন্ত্রণ পান। এর পরপরই ২০১৫ সালে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
২০১৫ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৩০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
প্রথম বছরেই তাঁর মাঝে খেলার প্রতি যথেষ্ট অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। পরের বছর অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২০১৬ সালে নিজ দেশে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ২০১৬ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লক্ষ্মণ সন্দাকানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৪ ও ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০৬ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এ পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রতিশ্রুতিশীলতার বিরাট স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। ফলশ্রুতিতে, ২০১৬ সালে এসএলসি বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়াড়ের সম্মাননায় অধিষ্ঠিত হন। শুরুরদিকে ৫০-ওভারের খেলাগুলোয় সুন্দর ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। প্রথম কয়েকটি খেলা থেকে অর্ধ-শতক পেয়েছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে খেলায় ছন্দ হারান। দলে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করতে থাকেন। ব্যাপকভাবে তাঁর খেলায় ধারাবাহিকতার অভাব লক্ষ্য করা যায় ও সুযোগ পেলেও নিজেকে মেলে ধরতে বেশ হিমশিম খান।
২০০৫ সালের সুনামীতে আক্রান্ত এলাকার গ্রাম থেকে এসেছেন। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১০-১১ মৌসুমে রিচমন্ড ক্রিকেট দলের প্রথম একাদশে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের শুরুতে সুপার টি২০ প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্টের ছয় ইনিংস থেকে ১৩৩ স্ট্রাইক রেটে ২৩৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, ব্যাটিং তালিকার শীর্ষে পৌঁছেন। কয়েক মাস পর তামিল ইউনিয়নের ৫৫ বছরের মধ্যে প্রথম-শ্রেণীর প্রিমিয়ার ট্রফি প্রতিযোগিতায় প্রথম শিরোপা বিজয়ী দলের তারকা ক্রিকেটার ছিলেন। ৫৪.২০ গড়ে ৮৬৮ রান তুলেছিলেন। তন্মধ্যে, দলের শিরোপা বিজয়কালীন চতুর্থ ইনিংসে ১২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। খণ্ডকালীন অফ-স্পিন বোলিং করলেও ঐ মৌসুমে ক্লাবের অন্যতম সফলতম বোলারের মর্যাদা লাভ করেন। ১৪.২৩ গড়ে ৩২ উইকেট দখল করেছিলেন।
এ সকল সুন্দর ফলাফলের কারণে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। মে-জুন, ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজে অংশ নেন। মিচেল স্টার্ক, জোশ হজলউড ও নাথান লায়নের বোলিং রুখে দিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। তৃতীয় টেস্টে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের সন্ধান পান। দিনেশ চণ্ডীমলের সাথে ২১১ রানের জুটি গড়েন। এ পর্যায়ে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রান তোলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রান তুলেন। সঙ্কট উৎড়িয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান। সিরিজের চতুর্থ ওডিআইয়ে অস্ট্রেলীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়লেও মিচেল স্টার্কের ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে ৭৪ রানের সুন্দর ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। এরপর, ২০১৬ সালে দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। প্রথম টেস্টে অর্ধ-শতকের পর দ্বিতীয় টেস্টে মনোমুগ্ধকর শতরানের ইনিংস খেলেন।
২০১৭-১৮ মৌসুমে ভারত গমনার্থে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলে ফিরে আসেন। এ সফরে আরও একটি শতক হাঁকান। চতুর্থ ইনিংসে ১১৯ রান তুলে রিটায়ার হার্ট হন। এরফলে, সফরকারী যে-কোন ব্যাটসম্যানের চেয়ে ভারতের মাটিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে এ সাফল্য পান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ০/৪৮ ও ১/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্য স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজে দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান থেকে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতা শেষে দল থেকে বাদ পড়েন। এ প্রতিযোগিতা চলাকালীন কুশল পেরেরা’র আঘাতের কারণে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। নিজের গুরুত্বতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
২০১৮-১৯ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ডিডব্লিউ স্টেইনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/১৫। খেলায় তিনি ২/১৫ ও ৩/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৯ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। প্রথম ইনিংসে ২ রান সংগ্রহ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৬৪ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২২ সালে নিজ দেশে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ২০২২ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩৩ ও ১০৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিক দল ২৪৬ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২২-২৩ মৌসুমে ডিমুথ করুণারত্নে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৭ মার্চ, ২০২৩ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৯৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হেনরি নিকোলসের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৮ রানে জয় পেলে তাঁর দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৩-২৪ মৌসুমে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সফরে যান। দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অপূর্ব খেলেন। ২২ মার্চ, ২০২৪ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০২ ও ১০৮ রান সংগ্রহ করে সম্মুখে থেকে দলের ৩৫৮ রানের বিশাল বিজয়ে অবদান রাখেন। পরবর্তীতে, ৩০ মার্চ, ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ৭০ ও ১ রান সংগ্রহ করে দলকে ১৯২ রানের জয় এনে দেয়াসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। সব মিলিয়ে ঐ সিরিজে ৭০.২১ গড়ে ২৮১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০২৪ সালে অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে শ্রীলঙ্কান দলকে নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গাস অ্যাটকিনসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৯০ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৫ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১৫ ও ২/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেন। তবে, পথুম নিসাঙ্কা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৮ রানে পরাভূত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
