ডেভন ম্যালকম

২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পিতা আলবার্ট পরিবারের অর্থ যোগান দিতে ইংল্যান্ডে কাজ করতেন। পাঁচ বছর বয়স থাকাকালীন মাতা ব্রেন্ডালি মারা যান। জ্যামাইকীয় শহর সেন্ট এলিজাবেথে দিদির কাছে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সকল ধরনের ক্রীড়া বিশেষ করে – স্প্রিন্ট, ক্রিকেট ও ফুটবলে অংশ নিতেন। ১৯৭৯ সালে শেফিল্ডে পিতার সাথে যোগদান করে ও রিচমন্ড কলেজে পড়াশুনো করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁর মাঝে ক্রিকেট প্রতিভার সন্ধান পাওয়া যায়। সাবেক ছাত্র ও কর্মীদের নিয়ে গড়া কলেজের ক্রিকেট দলে প্রথম ছাত্র হিসেবে যোগ দেন।

নিজের উপর বিশ্বাস রাখতেন ও ইংরেজ অধিনায়ক মাইক অ্যাথার্টনের আস্থা অর্জন করতে ক্ষীপ্র প্রেসে বিমোহিত করে পাঁচ উইকেট পান। তাঁর বিষয়ে দ্য শেফিল্ড স্টারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ১৯৮১ সালে ইয়র্কশায়ার স্কুলের পাশাপাশি অ্যাশলে মেটকাফের পর শেফিল্ড ক্যারিবিয়ান ও শেফিল্ড ইউনাইটেডের পক্ষে এপ্রিল, ১৯৮৪ সালে ইয়র্কশায়ার লীগ একাদশের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এক বিকেলে জিওফ্রে বয়কট ও মার্টিন মক্সনকে বোল্ড করে বিদেয় করেন।

নিজের সেরা দিনগুলোয় ভয়ঙ্কর প্রকৃতির বোলার হিসেবে নিজেকে আবির্ভূত করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, লিচেস্টারশায়ার ও নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৪০ টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। মাইক অ্যাথার্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৯ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মার্ভ হিউজের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মার্ক টেলরের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮০ রান জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯০ সালে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের ছাঁপ রাখেন। খেলায় তিনি ৩/৫৯ ও ৫/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে রিচার্ড হ্যাডলি’র শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৪ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

ইংল্যান্ডের একমাত্র ফাস্ট বোলার হিসেবে ইনিংসে নয়-উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী। দলে অনিয়মিত থাকা অবস্থায় আগস্ট, ১৯৯৪ সালে ওভালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এ সফলতা পান। ঐ গ্রীষ্মে তিনি ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র এক টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। সিরিজের শেষ টেস্টে তাঁকে দলে রাখা হবে কি-না তা নিয়েই সন্দীহান ছিলেন। এরপর আরও ১২ টেস্ট খেলেছিলেন।

১৯৯৪ সালে নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৮ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে সিআর ম্যাথুজকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৬/৭৭। খেলায় তিনি ১/৮১ ও ৯/৫৭ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য বোলিংশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। পাশাপাশি এ সিরিজে ১০ উইকেট লাভ করে ব্রায়ান ম্যাকমিলানের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মাইক অ্যাথারটনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৩০ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/৬২ ও ২/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। জ্যাক রাসেলের অসাধারণ অল-রাউন্ড কৃতিত্বের পাশাপাশি প্রতিপক্ষীয় দলনেতার দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৭ সালে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২১ আগস্ট, ১৯৯৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩৭ ও ১/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে মাইকেল কাসপ্রোভিচের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, ফিল টাফনেলের চমৎকার বোলিংশৈলীর কল্যাণে ১৯ রানে জয়লাভ করলেও স্বাগতিকরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ পর্যায়ে সবগুলো টেস্ট থেকে ৩৭.০৯ গড়ে ১২৮ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৯৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর ২৮ মে, ২০২১ তারিখে ইসিবি কর্তৃক ডিন হ্যাডলি’র সাথে তাঁকে ম্যাচ রেফারি হিসেবে মনোনীত করা হয়। দুইটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও ছয়টি লিস্ট-এ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *