৫ অক্টোবর, ১৯৬১ তারিখে ওয়েলিংটনের আপার হাট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
মোটাসোটা গড়ন নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটন দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুটা দারুণভাবে কাটান ও প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। জানুয়ারি, ১৯৮২ সালে ১৯ বছর বয়সে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ৬/৭৫ পান। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সেরা বোলিংয়ে পরিণত হয়। এ দশকে অনেক নিউজিল্যান্ডীয় বোলারের অন্যতম হিসেবে রিচার্ড হ্যাডলি’র সাফল্যের কাছে তিনিও ম্লান হয়ে পড়েন।
১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমের শেষদিকে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৩১ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয়। এরপর, ইয়ং নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমনের সুযোগ পান।
১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। এ সফরে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটি খেলায় অংশ নেন। ১৬ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৬ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ইকবাল কাশিমের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৭১ ও ১/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইকবাল কাশিমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক জহির আব্বাসকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৭১। বল হাতে নিয়ে খেলায় তিনি ৪/৮৮ ও ১/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেন। সেলিম মালিকের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের দেশে-বিদেশে ঐতিহাসিক সিরিজ বিজয়ে দলের বাইরে ছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৬ উইকেট নিয়ে দলে ফিরে আসেন।
১৯৮৬ সালে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। নটিংহাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ডেরেক প্রিঙ্গলের বলে বিদেয় নিলে সফরকারীরা কাঙ্খিত বিজয় থেকে ছিটকে যায়।
২১ আগস্ট, ১৯৮৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন পিচে খুবই শর্ট বল ডেলিভারি করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৭১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তন্মধ্যে, নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে এসে ইয়ান বোথাম তাঁর এক ওভারে ২৪ রান তুলে নেন। তবে, জন রাইটের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজয়বরণ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৮৪ সালে স্কটল্যান্ডে লীগ ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে হ্যাস্টিংসের হকস বে এলাকায় ৬২ বছর ৬৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
