৭ জুন, ১৯৭৭ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও দিল্লিতে থাকাকালে ক্রিকেট খেলায় হাতেখড়ি ঘটে। তরুণ বয়সে জিমন্যাস্টিক্সের প্রতি তাঁর অধিক ঝোঁক ছিল। কিছুটা দেরীতে ক্রিকেটে অংশ নেন। জাতীয় ক্রীড়া ইনস্টিটিউটের কোচ সুনীত শর্মা তাঁর মাঝে সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা লক্ষ্য করেন ও তাঁকে দ্রোণাচার্য্য গুরুশরণ সিংয়ের কাছে পাঠান। তাঁদের সাহচর্য্যে দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। তবে, নিজ রাজ্যে তাঁর জন্যে বড় ধরনের সুযোগ অপেক্ষা করছিল।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কলকাতা টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন। প্রধানতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি সুপার লীগে বরোদার বিপক্ষে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। স্মরণীয় সাফল্য পান ও শতক হাঁকান। তবে, এরপর থেকে বাংলা দলের পক্ষে নিজেকে নিয়মিত সদস্যের মর্যাদায় নিয়ে যেতে পারেননি। গ্লাভস হাতে নিয়ে তাঁকে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়। সাবা করিমের অবসর গ্রহণের পরই কেবলমাত্র স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করার সুযোগ পান। ২০০০-০১ মৌসুমে অনেকগুলো ডিসমিসাল করে সকলের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। তিন খেলা থেকে ১৩টি ডিসমিসালসহ ৩৮ গড়ে ১৯০ রান সংগ্রহ করেন।
২০০১ থেকে ২০০২ সময়কালে ভারতের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। মাত্র তিনটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকলেও জিম্বাবুয়ে সফরে ভারত দলের প্রাথমিক তালিকায় তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। কিন্তু, মূল দল থেকে তাঁকে বাইরে রাখা হয়।
একদিনের আন্তর্জাতিকে তেমন সুবিধে করতে না পারলেও টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তবে, শেষ মুহূর্তে আঘাতের কারণে সমীর দীঘেকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা সফরে সমীর দীঘে’র হতাশাব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলীর সুবাদে ২০০১-০২ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৫ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ৩ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। বীরেন্দ্র শেহবাগের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩৪ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শন পোলকের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর, সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দূর্দান্ত খেলে ভারতকে রক্ষা করেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষণে তাঁর ভূমিকা অপূর্ব ছিল।
২০০১-০২ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ এপ্রিল, ২০০২ তারিখে জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করার পাশাপাশি একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ নিয়ে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০৭ সালে বিস্ময়করভাবে অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে যুক্ত হন। কলকাতা টাইগার্সের পক্ষাবলম্বন করেন ও ২০০৮ সালে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার্সের পক্ষে খেলেন। বিদ্রোহী লীগের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৯ সালে বিসিসিআইয়ের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতায় চলে আসেন।
