|

ডেভিড তারব্রুগ

৩১ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে নাটালের লেডিস্মিথ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় উঁচুমানের ফাস্ট বোলার হিসেবে চিত্রিত হন। তার বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই শন পোলকের অনুরূপ ছিল। নিখুঁত ও ধারাবাহিক বোলিংশৈলী প্রদর্শনের কারণে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ আঘাতের কারণে তাঁর উঁচু স্তরের ক্রিকেটে স্বাভাবিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ ব্যাঘাত ঘটায়। ১৮ বছর বয়সে ১৯৯৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর পিঠের আঘাতে ভুগেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতের কারণে পুরো মৌসুমে তাঁর সম্ভাবনা ও যোগ্যতার বিষয়টি ধরা যায়নি।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেং ও লায়ন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০ বছর বয়সে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে ট্রান্সভালের সদস্যরূপে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে প্রথম খেলেন। পরের মৌসুমে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। স্মর্তব্য যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ – দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৩২ ও ১/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শন পোলকের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৮.১১ গড়ে নয় উইকেট নিয়ে দলের ৫-০ ব্যবধানের ধবল ধোলাইয়ে অংশ নেন। তবে, এরপর থেকে সুযোগের ক্ষেত্র বেশ কমে আসে। আঘাতের কবলে পড়ার পাশাপাশি দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বিরূপ প্রভাব ফেলে। তুলনামূলকভাবে টেস্টে বেশ ভালো খেলেন।

২০০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত তাঁকে ওডিআইয়ে খেলানো হয়নি। সিঙ্গার কাপে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪/২০ নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

মার্চ, ২০০২ সালে ডারবানে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। পরের মৌসুমে ইস্ট লন্ডনে সফরকারী বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫/৪৬ পান।

২০০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে খালেদ মাসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১৮ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে ইস্ট লন্ডনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ রফিককে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/২৭। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ২/৪৩ ও ৫/৪৬ লাভ করেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। গ্রায়েম স্মিথের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১০৭ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ মার্চ, ২০০৪ তারিখ থেকে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৯৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ক্রিস মার্টিনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘ সম্ভাবনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। তবে, আঘাত এতে বাদ সাধে। বহুমূখী আঘাতের কারণে দলে কখনো নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পাননি। ২৬ অক্টোবর, ২০০৬ তারিখে মাত্র ২৯ বছর বয়সেই সকল স্তরের পেশাদারী ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। পূর্বেকার মৌসুমে পিঠের আঘাতে আক্রান্ত হন।

Similar Posts

  • |

    ড্যান টেলর

    ৯ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৭-০৮ মৌসুম থেকে ১৯১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। সব মিলিয়ে মাত্র…

  • |

    মোহাম্মদ নাঈম

    ২২ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে ঢাকা মেট্রোপলিটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বেক্সিমকো ঢাকা, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা, রংপুর র‍্যাঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন।…

  • |

    সনি মলোনি

    ১১ আগস্ট, ১৯১০ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েলিংটনের বিশ্বস্ত ব্যাটসম্যান…

  • | | | | | |

    ক্লাইভ লয়েড

    ৩১ আগস্ট, ১৯৪৪ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার কুইন্সটাউনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি, কোচ, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার) গড়ন নিয়ে দীর্ঘকায় শারীরিক গঠনের অধিকারী, আনত কাঁধ, বৃহৎ গোঁফ ও…

  • |

    ম্যাট হর্ন

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে অকল্যান্ডের টাকাপুনা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ওতাগো দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৭ থেকে…

  • |

    যশস্বী যশওয়াল

    ২৮ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে উত্তরপ্রদেশের ভাদোহির সূর্য্যবন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই ও বহিঃভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস, ভারত ‘এ’ অনূর্ধ্ব-১৯, ভারত ‘বি’, ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে…