১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে রিস্ট-স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
গ্রেড ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছেন। প্রতিযোগিতার অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে ব্র্যাডম্যান পদক জয় করেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে টিচার্স কলেজ ও ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে অ্যাডিলেডের পক্ষে খেলেছেন। ৩০ বছর গ্রেড ক্রিকেট খেলার পর ১৯৯৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। কেনসিংটন, টিচার্স কলেজ, ইস্ট টরেন্স, অ্যাডিলেড ও ওয়েস্ট টরেন্সের পক্ষে খেলে ২০.৭০ গড়ে ৭৬২ উইকেট ও ২০-এর কম গড়ে ২৯৫৪ রান তুলেছেন।
‘এভিলডিক’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষাবলম্বন করেছেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ৩০ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে শিরোপা জয়ের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দলের সদস্যদের সাথে মিলিত হন।
নভেম্বর, ১৯৭৭ সালে অ্যাডিলেড ওভালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে সফরকারী ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটের কারণে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমের গ্রীষ্মে ওয়েন প্রায়রের পরিবর্তে খেলেন। তিনদিনের খেলায় স্বাগতিক দল ছয় উইকেটে পরাজিত হলেও তিনি প্রথম ইনিংসে আট-বল নিয়ে গড়া ১১.৫ ওভারে ৭/৪০ পান ও সফরকারী দলকে ১৬৮ রানে গুটিয়ে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। এ খেলায় তিনি দুইবার সুনীল গাভাস্কারকে বিদেয় করেছিলেন।
১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে মেলবোর্নের এমসিজিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে অংশ নেন। ইয়ান চ্যাপেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/৬৭ ও ১/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৭ রান তুলেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২৯ ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৯৩ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ৩৮.৯০ গড়ে ৯৮ উইকেট ও ২০.৮০ গড়ে ৬২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সাকা বোর্ডের সদস্যসহ তিন বছর সহঃসভাপতি ও অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
