৬ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে সারের রেইগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
শৈশবকালেই তাঁর মাঝে ক্রিকেটের প্রতি প্রবল আসক্তি লক্ষ্য করা যায়। পিতা তাঁকে উৎসাহিত করতেন। বোগনরভিত্তিক নর্থক্লিফ হাউজ প্রিপারেটরি স্কুলে পড়াশুনো করেন। নিজেকে পুরোপুরি বামহাতি স্লো বোলার হিসেবে গড়ে তুলেন। বিদ্যালয় জীবনের স্বপ্নপুরুষ হ্যাডলি ভেরিটি’র বোলিং ভঙ্গীমা রপ্ত করার চেষ্টা চালান। বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে থাকাকালীন এগারো নম্বর অবস্থানে খেলতেন।
দীর্ঘদেহী, শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন।
১৯৫০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ২২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ১৯৫০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। আর্থার ম্যাকিন্টায়ার ও ম্যালকম হিল্টনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৬ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫০-৫১ মৌসুমে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৪ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।
১৯৫৪-৫৫ মৌসুমের অ্যাশেজ সফরের পূর্বে দুইটি খেলায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পাদ্রী হিসেবে ইংল্যান্ড দলে ফিরে আসেন। ১৯৫৬ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে জিম লেকারের টেস্টে অংশ নিয়ে ১১৩ রান তুলেছিলেন। এরপর, ওভালে ৬২ রানের ইনিংস খেলে স্বাগতিকদের অ্যাশেজ করায়ত্ত্বে ভূমিকা রাখেন।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ ও ১২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যালান ডেভিডসনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
একই মৌসুমে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৫ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪২ ও ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ষাটের দশকে বর্ণবৈষম্যবাদে জড়িত তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্যে বেশ সরব ছিলেন। মাঝে-মধ্যে সাসেক্সের পক্ষে খেলা চলমান রাখতেন। ১৯৬০ সালে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে নরফোক ডিউক একাদশের অধিনায়ক হিসেবে খেলতে অস্বীকৃতি জানান। প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে এ বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পরবর্তীকালে তিনি মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর, ১৯৭৫ সালে লিভারপুলের বিশপের দায়িত্ব পালন করেন। দুই খণ্ডে স্বীয় আত্মজীবনী রচনা করেছেন। ১৯৬৬ সালে ‘পারসন্স পিচ’ ও ২০০২ সালে ‘স্টেপস অ্যালং হোপ স্ট্রিট’ প্রকাশ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনের বিবাহিত ছিলেন। হোমার্টন কলেজের ছাত্রী এলিনর গ্রেস আইজাকের সাথে পরিচিত হন। ১৯ জুন, ১৯৫৭ তারিখে ২২ বছর বয়সী গ্রেসের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। পরবর্তী ৪৮ বছর তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক অটুঁট থাকে। মধুচন্দ্রিমা উদযাপনকালে গ্রেস অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এ দম্পতির জেনি নাম্নী এক কন্যা ছিল।
৫ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ওয়েস্ট কার্বির মেলনক্রফ্ট ড্রাইভ এলাকায় ৭৫ বছর ৩৬৪ দিন বয়সে নিজ গৃহে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সেন্ট ব্রিজেটস চার্চে তাঁর শবানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ও লিভারপুল ক্যাথেড্রালে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ২৩ মে, ২০০৫ তারিখে স্মরণসভায় তিন হাজারের অধিক জনতা উপস্থিত ছিলেন। শেফার্ড ও ওরলকের সম্মানার্থে হোপ স্ট্রিটে স্টিফেন ব্রডবেন্ট আবক্ষ মূর্তি প্রতিস্থাপিত করা হয়। মৃত্যু পরবর্তী সময়ে £৩৩৯,৩৪৬ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের সম্পদ রেখে যান।
