|

ডেভিড আয়রনসাইড

২ মে, ১৯২৫ তারিখে মোজাম্বিকের ল্যুরেঙ্কো মার্কুজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পার্কটাউন বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৪২ সালে নাফিল্ড উইকে ট্রান্সভালের বিদ্যালয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে বেশ ক্ষীপ্রতার সাথে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। কিন্তু, হাঁটুর সমস্যায় পেসের মাত্রা কমিয়ে দেন ও কার্যকর মিডিয়াম-পেস সুইং বোলারের পরিচিতি পান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবকটি টেস্টই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে জিওফ রাবোনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে জোহানেসবার্গের এলিস পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, মোজাম্বিকের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/৫১ ও ৩/৩৭ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ১৩ ও ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৩২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

পরবর্তী খেলাগুলোয় ভিন্ন ভিন্ন বল ব্যবহার করা হলে বেশ হিমশিম খান। তাসত্ত্বেও, পঞ্চম টেস্টের পূর্বে ১৮.৩৩ গড়ে ১৫ উইকেট পেয়েছিলেন। বক্সিং ডে টেস্টটি চরম নাটকীয়তায় ভরপুর ছিল। নীল অ্যাডকককে সাথে নিয়ে বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করে রাখেন।

একই সফরের ২৯ জানুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/২০ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

জোহানেসবার্গ থেকে বিমানে চড়ে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে অংশ নিতে পারেননি ও ইস্টার্ন প্রভিন্সের অল-রাউন্ডার অ্যান্টন মারেকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এরপর আর তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। এরপর, আরও দুই মৌসুম ট্রান্সভালের পক্ষে খেলেন। ক্রিকেটের বাইরে জোহানেসবার্গে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এরপর, কন্যাকে সাথে নিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান। ২১ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে ৮০ বছর ১১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ট্রান্সভাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সঙ্গী নীল অ্যাডকক মন্তব্য করেন যে, ‘তাঁর সুইং অনেকাংশেই বুমেরাং প্রকৃতির ছিল। সন্দেহাতীতভাবে ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা সুইং বোলার ছিলেন। তিনি সর্বদাই প্রাণপ্রাচুর্য্যে ভরপুর ছিলেন ও প্রকৃত অর্থে আগ্রাসী ধাঁচের ছিলেন না।’

Similar Posts

  • |

    রবিন স্মিথ

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জাজ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। সহোদর ক্রিস স্মিথ ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকেই তাঁর মাঝে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। নিজের সময়কালে শীর্ষসারির অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদাপ্রাপ্ত…

  • |

    কেএল রাহুল

    ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্যাঙ্গালোর ব্রিগেডিয়ার্স,…

  • |

    শার্ল উইলোবি

    ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ওয়েনবার্গ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন শেষে স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেন্ট জেমস প্লেস ওয়েলথ ম্যানেজম্যান্ট একাডেমি থেকে স্নাতক লাভ করেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে…

  • | | |

    অরবিন্দ ডি সিলভা

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। পিতা স্যাম তাঁর উপযোগী বিদ্যালয় খুঁজে বের করতে বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। অবশেষে ডিএস সেনানায়েকে কলেজ আরআইটি অ্যালিসের অধ্যক্ষকে প্রথম গ্রেডে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। খুব…

  • |

    ফারুক হামিদ

    ৩ মার্চ, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর ও…

  • | |

    আসিফ মুজতবা

    ৪ নভেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন তেমন দর্শনীয় ছিল না। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…