৩০ জানুয়ারি, ১৯৪২ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের ওয়ালসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘ ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। বিশ্বস্ত ও প্রচণ্ড পরিশ্রমী ফাস্ট-বোলার হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। নিজ দেশের চেয়ে বিদেশের মাটিতেই অধিক সফলতার সন্ধান পান। দীর্ঘ উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বলে বাউন্স আনতে পারতেন ও উপযোগী পিচে ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। তাঁর দৃঢ়প্রত্যয়ী মনোভাব আঘাত থেকে মুক্ত রাখে এবং দর্শক ও দল নির্বাচকের কাছে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমেও কার্যকর ভূমিকা রাখতেন।
১৯৬১ থেকে ১৯৮২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে ওয়ারউইকশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে সব মিলিয়ে ২৬ টেস্টে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৬৫ সালে নিজ দেশে পিটার ফন ডার মারউই’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২২ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩/৪৪ ও ৩/৩০ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ‘বব কাউপারের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।
একই মৌসুমে মাইক স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/৮০ ও ১/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
জুন, ১৯৬৮ সালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ২০০তম টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। লর্ডসে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ৫/৪২ লাভ করেছিলেন। ব্যারি নাইটকে সাথে নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করে প্রথম ইনিংসে সফরকারীদেরকে ৭৮ রানে গুটিয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। তন্মধ্যে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক বিল লরি’র উইকেট পেয়েছিলেন। খেলাটি ব্যাপক অর্থে বৃষ্টিবিঘ্নিত হয় ও তিনি আরও কোন উইকেট লাভে কৃতকার্য না হওয়ায় ড্রয়ে পরিণত হন। পাঁচ-উইকেট লাভের ফলে লর্ডস অনার্স বোর্ডে তিনি অন্তর্ভুক্ত হন। তবে, পাঁচ-উইকেট লাভের বিষয়টি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের দ্বিতীয় ও সর্বশেষ সাফল্য ছিল।
এছাড়াও, ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে এমসিসি’র সহঃঅধিনায়কত্ব করেন। ১৯৬৯ সালে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ১১* ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৭ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২৩০ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর খামার ও ঘোড়া উৎপাদনের সাথে জড়িত হওয়াসহ ওয়ারউইকশায়ারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে ৪০ বছর বয়সে দলে আঘাতজনিত খেলোয়াড় সঙ্কট দেখা দিলে খেলতে নামেন। ১৯৮৬ সালে মিকি স্টুয়ার্ট তাঁকে ইংল্যান্ড দলের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনের জন্যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
