|

ডেভিড ব্রেইন

৪ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দীর্ঘদেহী ও কোকড়ানো চুলের অধিকারী। সচরাচর ওভার দ্য উইকেট বরাবর বামহাতে সিম বোলিং করতেন। নিচেরসারিতে ব্যাটিং নেমে আগ্রাসী ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর দ্রুত উত্থান ঘটে।

১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্নে জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। স্বল্পকালীন সময়ের জন্যে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে অংশ নেন। তিন বছর সক্রিয় ছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। সকল ধরনের পরিবেশের জিম্বাবুয়ের আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বলকে উভয়দিক দিয়ে সিম করানোয় দক্ষ ছিলেন। কৌণিকভাবে বোলিং করানোর মাধ্যমে উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ২৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২৫ অক্টোবর, ১৯৯২ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটারের চেয়েও তাঁর খেলার মান ভালো ছিল। তাসত্ত্বেও, ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হন। তবে, পরের মৌসুমেই টেস্ট দলে ঠাঁই করে নেন।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের মুখোমুখি হন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উৎসাহব্যঞ্জক বোলিংশৈলী উপস্থাপন করেছিলেন। খেলায় তিনি ৩/৪৯ ও ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারী দল ১৭৭ রানে জয় তুলে নেয় ও ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সাথে পাকিস্তান সফরেও অপূর্ব খেলেন। দুই টেস্টে অংশ নিয়ে ১৫.৩৩ গড়ে ১২ উইকেট দখল করেন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অপূর্ব খেলেন। ৫/৪২ ও ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। খেলাটি ড্র হয়। স্বাগতিক দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

পরের মৌসুমে নিজ দেশে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয়ী খেলায় অংশ নেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪৮ ও ২/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ২২* ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৯৯ রানে পরাজিত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দলের উত্থানকালীন সময়ে তাঁর আর্থিক অবস্থা বেশ নড়বড়ে ছিল। ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পারিবারিক হার্ডওয়্যার ব্যবসায় নিজেকে বেশ জড়িয়ে ফেলেন। সবেমাত্র আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে অচিরেই খেলার জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট