২৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে তাসমানিয়ার লঞ্চেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
হাল ছেড়ে না দেয়ার মানসিকতাসম্পন্ন। সকল ধরনের শট খেলতে পটু ছিলেন। তাঁর বিপক্ষে বোলিং করা বেশ দুষ্কর ছিল। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অভিষেক মৌসুমে তাসমানিয়ার জিলেট কাপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ক্রমাগত দূর্দান্ত খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। পাঁচ মৌসুম পর তাঁকে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
১৯৮৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১০৭ টেস্ট ও ১৮১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৪ তারিখে মেলবোর্নে বেনসন এন্ড হেজেস বিশ্ব সিরিজ কাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। প্রথম উইকেটের পতনের পর ৭১ বল মোকাবেলা করে ৩৯ রান তুলেছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিক দল ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে।
নয় মাস পর দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় প্রথম অংশ নেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ নভেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। বব হল্যান্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৫১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে ম্যালকম মার্শালের বলে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় দলনায়কের অসাধারণ শতকের কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
অ্যাশেজ দলের সদস্য হন। তবে, চার টেস্টে অংশ নিয়ে কোনটিতেই অর্ধ-শতক হাঁকাতে পারেননি। অ্যাশেজ সিরিজের মাঝামাঝি সময়ে দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর, ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেরেমি কোনি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২২ নভেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রান তুলে দলের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশ নেন। এ টেস্টে ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬১ রান অতিক্রম করেন। তবে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন ও খেলায় তিনি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। জন ব্রেসওয়েলের প্রাণান্তঃকর অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭০ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ম্যান অব দ্য ফাইনাল পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে নিজ দেশে জেফ ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০১ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪৩ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়ানৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪৮ রানে পৌঁছানোকালে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পাশাপাশি, এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন ১৮৪ রানের সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। তিনি ২০০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অবশ্য, মার্ক গ্রেটব্যাচের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের পঞ্চম দিন তিনি ৫০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৭৬ ও ৬৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্রায়ান লারা’র অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১২ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে পার্থে সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ রানে পৌঁছানোকালে এক পঞ্জিকাবর্ষে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৬৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যান্ড্রু জোন্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে হোবার্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৬০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১০৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মার্ক ওয়াহ’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২২২ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত খেলায় সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ১১০ রানের ইনিংস খেলেন। পাশাপাশি, খেলায় দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৫ জানুয়ারি, ১৯৯৬ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৩ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, স্টিভ ওয়াহ’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৪৮ রানে পরাভূত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। এ পর্যায়ে দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আইসিসি রেফারিদের শীর্ষ তালিকায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন। ৬৫ টেস্ট, ১৪৬টি ওডিআই, ৮৩টি টি২০আই ও সাতটি মহিলাদের টি২০আই পরিচালনা করেছেন। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক অতিমারীতে নেতিবাচক ফলাফলে আক্রান্ত হবার ফলে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট পরিচালনা করতে পারেননি। বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় বোলার মাইক হুইটনি’র দৃষ্টিকোণে লাল-বলের ক্রিকেটে শীর্ষ একাদশে ঠাঁই পেয়েছেন।
