|

ডেভ নোর্স

২৫ জানুয়ারি, ১৮৭৯ তারিখে ইংল্যান্ডের সাউথ নরউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৮৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল, ট্রান্সভাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ওয়েস্ট রাইডিং রেজিমেন্টের বাদক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন ও ঐ দেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। দুই বছর পর নাটালের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন।

১৯০২ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৪৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০২-০৩ মৌসুমে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চার্লি স্মিথ, মেইটল্যান্ড হথর্ন, জর্জ থর্নটন, হেনরি টাবেরার ও লুইস ট্যানক্রেডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯০৫-০৬ মৌসুমে জোহানেসবার্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট বিজয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২৮৭ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত স্বাগতিক দলের সংগ্রহ ১০৫/৬ থাকাকালে তিনি গর্ডন হোয়াইটের সাথে যোগ দেন। ১২১ রানের জুটি গড়েন। শেষ উইকেটে পার্সি শারওয়েলকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। প্রথম ইনিংসে ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৯৩ রান তুলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২/৭ লাভ করেন। জনৈক দর্শক তাঁর ব্যাট ক্রয় করে পরবর্তীতে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে দান করেন।

১৯০৭ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১ জুলাই, ১৯০৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে খেলেন। খেলায় তিনি ৬২ ও ১১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯১০-১১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেছিলেন। ৯ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫ ও ৬৪* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৬১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৪ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে খেলায় তিনি ২৬ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫১ ও ৬৩ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯২৪ সালে হার্বি টেলরের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৬ আগস্ট, ১৯২৪ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৭ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ২/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২২ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে কোন টেস্টেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। এ কারণেই তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে প্রধান ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। ১৯৭০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে কেবলমাত্র জন ওয়েট তাঁর তুলনায় অধিক টেস্ট খেলেছিলেন।

নাটালের পক্ষে ক্রিকেট, রাগবি ও ফুটবল খেলতেন। এছাড়াও, ডারবান রোয়িং ক্লাব দলের সদস্য ছিলেন। সেনাবাহিনীর বাইরে থেকে ক্রিকেট কোচ, পুলিশ, রেলওয়ের নিরাপত্তা রক্ষী, বাণিজ্যিক ভ্রমণকারী ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। এমনকি, স্যালুন ও বিলিয়ার্ডস বোর্ডস রক্ষণাবেক্ষণেও নিজেকে জড়ান।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান ডাডলি নোর্স দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে। এছাড়াও, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে তাঁরা একত্রে খেলেছেন। ৮ জুলাই, ১৯৪৮ তারিখে কেপ প্রভিন্সের গ্লেন্ডিনিংভেল এলাকা ৬৯ বছর ১৬৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    ভরত রেড্ডি

    ১২ নভেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৩ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের বিদ্যালয় দলের নেতৃত্বে থেকে বেশ সফলতার…

  • |

    পার্সি ফেন্ডার

    ২২ আগস্ট, ১৮৯২ তারিখে লন্ডনের বলহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘মসি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। অন্যতম সেরা অধিনায়কের মর্যাদা পেলেও কখনো ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাননি। সেন্ট পলস স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। মারকুটে…

  • | | | |

    রিচি বেনো

    ৬ অক্টোবর, ১৯৩০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথে জন্মগ্রহণকারী ফরাসী বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক ও লেখক ছিলেন। খুব স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারই তাঁর ন্যায় স্বার্থকভাবে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। অল-রাউন্ডার হিসেবে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। অন্যান্য বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় স্পিনারের ন্যায় বড় মাপের স্পিনার না হলেও পিচে অপ্রত্যাশিতভাবে…

  • |

    রডনি রেডমন্ড

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৪ তারিখে নর্থল্যান্ডের হোয়াঙ্গারেই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন ও স্ট্রোকের ফুলঝুঁড়ি ছোটাতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘদেহী ও আক্রমণাত্মক ধাঁচের অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে সামনের পায়ে ভর রেখে খেলতেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম…

  • |

    মোহাম্মদ রমজান

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ২০০৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফয়সালাবাদ, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান…

  • | | |

    মিসবাহ-উল-হক

    মে, ১৯৭৪ তারিখে পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভসহ সর্বাপেক্ষা সফল টেস্ট অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ওয়াসিম আকরামকে পাশ কাটিয়ে ওডিআইয়ে…