|

ডেন পাইত

৬ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কেপটাউনভিত্তিক এসএসিএসে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাজ ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলেছেন। ৪ মার্চ, ২০১০ তারিখে কেপটাউনে ইস্টার্ন প্রভিন্স বনাম ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১৩-১৪ মৌসুমে কেপ কোবরাজের পক্ষে ৪৫ উইকেট তুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী করে তুলেন। জুলাই, ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা গমনের জন্যে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

২০১৪ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্টে অংশগ্রহণ করছেন। টেস্টগুলো থেকে ২৬ উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। তবে, আশানুরূপ খেলেননি ও দলের বাইরে চলে যান।

পরের মাসে অর্থাৎ ২০১৪ সালে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ের গমন করেন। সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ঘটনাবহুল এ টেস্টে নিজের প্রথম বলে মার্ক ভার্মুলেনের উইকেট লাভ করেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এ সাফল্যের অধিকারী হন। বল হাতে নিয়ে ৪/৯০ ও ৪/৬২ লাভ করেন। ১৯০৬ সালে অব্রে ফকনারের পর অভিষেকে দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিনার হিসেবে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেন। খেলায় তিনি ৮ উইকেট দখল করেন ও ক্রিকেট বিশ্বে তাঁর বেশ সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ঐ খেলায় তাঁর দল ৯ উইকেটে জয় পায়। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। বলকে বাঁকানোর পাশাপাশি বৈচিত্র্যতা আনয়ণ করতে পারেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪/১১৭ ও ০/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। অজিঙ্কা রাহানে’র জোড়া শতকের বদৌলতে সফরকারীরা ৩৩৭ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০১৯-২০ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। অক্টোবর, ২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলেন। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে একমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ববর্তী বছরে দুই টেস্ট থেকে প্রাপ্ত দুই উইকেটের এটি একটি। ভারতের উপযোগী পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। টেস্ট সিরিজে তাঁর বল থেকে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর ন্যায় অমর্যাদাকর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান। খুব দ্রুত দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির বাইরে চলে যান।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে অংশ নিলেও দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সাদা-বলের ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ২৭ মার্চ, ২০২০ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নবপ্রবর্তিত মাইনর লীগ টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চুক্তিবদ্ধ হন। এরফলে, দৃশ্যতঃ দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটান। বাস্কেটবল দেখতে বেশ পছন্দ করেন।

এক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পুণরায় টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নীল ব্র্যান্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৫/১৫৩। খেলায় তিনি ৫/৮৯ ও ৩/৯৩ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, উইলিয়াম ও’রোর্কের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা খেলায় ৭ উইকেটে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ২১ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৩৫ ও ০/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কাইল ভেরিনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

Similar Posts

  • |

    কবির আলী

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহামের মোজলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারে জন্ম। তাঁর ভাই – আতিফ আলী হ্যাম্পশায়ার ও ওরচেস্টারশায়ার দ্বিতীয় একাদশে খেলেছেন। চাচাতো ভাই – কাদির আলী, এমএম আলী ও…

  • | |

    বার্নার্ড জুলিয়ান

    ১৩ মার্চ, ১৯৫০ তারিখে ত্রিনিদাদের কেয়ারনাগে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সকল গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আগ্রাসী ব্যাটিং, প্রাণবন্তঃ বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের সর্বক্ষেত্রে একাধিপত্য বজায়ে সচেষ্ট ছিলেন। এরফলে, দর্শকদের প্রিয় তারকায় পরিণত…

  • |

    ব্রেন্ডন ম্যাককালাম

    ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ডানহাতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পরিচিতি লাভ করেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ‘বাজ’ ডাকনামে পরিচিতি পান। দ্রুত সাড়া…

  • |

    নাথান লায়ন

    ২০ নভেম্বর, ১৯৮৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ইয়ং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গোট’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। স্টিভেন লায়ন ও ব্রোনিন লায়ন দম্পতির সন্তান। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮১ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। শুরুতে অ্যাডিলেড ওভালের…

  • |

    অলোক কাপালী

    ১ জানুয়ারি, ১৯৮৪ তারিখে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অনেক উদীয়মান ও প্রতিভাবান বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের ভীড়ে তিনিও নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপনীত করতে পারেননি। টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাট্রিক লাভ ব্যতীত বাংলাদেশ দলে তেমন সাফল্যের…

  • | |

    অ্যান্থনি ম্যাকগ্রা

    ৬ অক্টোবর, ১৯৭৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ব্রাডফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘গ্রীপার’ ডাকনামে ভূষিত অ্যান্থনি ম্যাকগ্রা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ইয়র্কশায়ার মার্টিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। জিসিএসই নবম গ্রেড বিটিইসি ন্যাট ডিপ লেজার স্টাডিজে…