২ জুন, ১৯০৮ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। বেশ বিনয়ী, অসম্ভব জনপ্রিয় ও সর্বদাই হাস্যমুখে থাকতেন। ‘ড্যাড’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। নিউজিল্যান্ডের অপর সেরা ব্যাটিং তারকা মার্ভ ওয়ালেস তাঁর ‘ড্যাড’ নামকরণে বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, বেশ আগেভাগেই তাঁর চুল পড়ে যায়। এরফলে, তাঁকে সকলের কাছে বেশ বয়ষ্ক লাগতো।

১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১০ শতক সহযোগে ৩২ গড়ে ৫০২২ প্রথম-শ্রেণীর রান তুলেছেন। দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহে তৎপর হতেন, প্রয়োজন থেমে যেতেন। স্লো-মিডিয়াম বোলিংয়েও কার্যকর ভূমিকা রাখতেন। ৩৭ গড়ে ১০৭ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, ১৯৩০-৩১ মৌসুম পর্যন্ত উভয় বিভাগে তাঁর গড় ছিল ৬১ ও ২৭। খেলোয়াড়ী জীবনের বাদ-বাকী সময়টুকু সাধারণমানের ২৮ ও ৪০ ছিল। এছাড়াও, চমৎকার ফিল্ডিং করতেন।

১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ২৯.৭১ গড়ে ৪১৬ রান সংগ্রহসহ ২৯.৮৫ গড়ে ৭ উইকেট দখল করেছিলেন। অধিকাংশ টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। শেষদিকে দুইটি টেস্টে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এডি ম্যাকলিওড ও জ্যাকি মিলসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩ ও ২১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৭ রান অতিক্রম করেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৩১ সালে টম লরি’র নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। এটিই নিউজিল্যান্ড দলের প্রথম বিদেশ সফর ছিল। ২৭ জুন, ১৯৩১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে গাবি অ্যালেনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ১/১। খেলায় তিনি ৩/৩৮ ও ০/১৮ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৭ ও ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এ সফরে ১০৩৫ রানের সন্ধান পেয়েছেন।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে নিজ দেশে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন ৬৩ রানের সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪৬ ও ৭৪* রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১২ রানে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, ১৯৩৭ সালের ইংল্যান্ড সফরে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। উন্মুক্ত পিচ, ভেজা আবহাওয়া তাঁকে মুক্তভাবে রান সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ঐ বছর কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি ইউনিয়ন খেলায় সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। অকল্যান্ড রাগবি ইউনিয়ন দলে ফ্লাই-হাফ অবস্থানে খেলতেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ফ্রাঙ্ক অকল্যান্ডের পক্ষে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দল নির্বাচক ও অকল্যান্ডভিত্তিক বারবিয়ান কাপে কিশোর দলকে ১২ বছর প্রশিক্ষণ দেন। মাউন্ট আলবার্ট গ্রামার স্কুলে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন। এছাড়াও, রাগবি ও ক্রিকেট দলকে সহায়তা করতেন। ইডেন পার্কে কোন ক্রিকেট কিংবা রাগবি খেলা অনুষ্ঠিত হলে চলে আসতেন।

৩১ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে অকল্যান্ডে ৯৫ বছর ১৫১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন বিশ্বের প্রবীণতম টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১০ অক্টোবর, ২০০১ তারিখে ইংল্যান্ডে বিখ্যাত ফাস্ট বোলার আল্ফ গোভারের মৃত্যুর পর বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট