২৪ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে নাটালের পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও লেখক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম থেকে ১৯৫২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন।
১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। বোলিং উদ্বোধনে নামতেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে নিজ দেশে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানের কিংসমিডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়েন উইন ও ডেনিস বেগবি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করে অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখেন। অভিষেকে ১২-২-৪৩-৬ গড়ে নিজের সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রথম ইনিংসে ০/২০ লাভ করেন। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ২ উইকেটে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫১ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেছিলেন। ৭ জুন, ১৯৫১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/১০৪ ও ১/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১* ও ৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৭১ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯৫১ তারিখে লন্ডনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৫ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যাট হাতে স্কোরারদের তেমন সমস্যায় ফেলতেন না। ২৪বার ক্রিজে নেমে মাত্র ২৮ রান তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পাঁচ রান তুলেন। ডানহাতে ফাস্ট-বোলিং করে ওভারপ্রতি ২.৫৮ রান খরচায় ৩৬ উইকেট দখল করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে উদারচিত্তের অধিকারী ছিলেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জুলাই, ২০০০ সালে তাঁকে জোহানেসবার্গভিত্তিক হেলেন যোসেফ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অতঃপর, ১৪ আগস্ট, ২০০০ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে ৭১ বছর ১৪৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
