|

ক্রেগ উইশার্ট

৯ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শুরুতে অবশ্য মিডিয়াম-পেস বোলিং করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

কার্যকর শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান। দূর্ধর্ষ প্রকৃতির স্ট্রোক মারার অধিকারী। বেশ ঝুঁকি সহকারে মারমুখী ভঙ্গীমায় শট খেলতে অভ্যস্ত। এক পর্যায়ে তিনি নিজের দোষেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসতেন। তবে, এ ধরনের ক্রীড়াশৈলী তৎকালীন সময়ে দলে তেমন ভূমিকা রাখেনি। ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি। কিন্তু উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে কোন কারণে টিকে থাকতে পারলে দলে বিরাট প্রভাব ফেলতো।

‘লিওনেল’ কিংবা ‘উইশ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ফ্যালকন কলেজের ছাত্র ছিলেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপন করেছিলেন। পিতা রোডেশিয়া ‘বি’ দলের পক্ষে খেলতেন ও ২০০৩-০৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনকালে ক্রেগ উইশার্ট শুনতে পান যে, গাড়ী দূর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি ডিস্ট্রিক্টস, মাতাবেলেল্যান্ড ও মিডল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৫ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত ম্যাশোনাল্যান্ড এবং ২০০০-০১ মৌসুম থেকে মিডল্যান্ডসের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, আলেকজান্দ্রার পক্ষে খেলেছেন। ৩০ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে ওল্ড হারারিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে ‘বি’ বনাম কেন্টের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্ট ও ৯০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৩ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী টেস্টে চার্লি লকের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অ্যালান ডোনাল্ডের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে একমাত্র টেস্টটিতে স্বাগতিক দল ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করে। খেলায় তিনি ২৪ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হিসেবে জিম্বাবুয়ের শুরুরদিকের দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর উপযোগিতার কথা তুলে ধরেছিলেন। অনেকগুলো খেলায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক শতক হাঁকানোর ক্ষেত্রে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেননি। নিজস্ব অষ্টাদশ টেস্টে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১৪ রানের শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।

দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছ থেকেও তেমন সহায়তা পাননি। প্রায়শঃই বিভিন্ন অবস্থানে খেলতে বাধ্য হয়েছেন ও দলে সর্বদাই আসা-যাওয়ার পালায় ছিলেন। এক পর্যায়ে স্পষ্টতঃই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। একদিনের আন্তর্জাতিকেই অধিক ব্যবহৃত হয়েছেন। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, ঐ প্রতিযোগিতায় শুরুতেই জিম্বাবুয়ে দলকে বিদেয় নিতে হয়।

মাঠের বাইরে কিছু সমস্যায় নিজেকে জড়িয়েছেন। এপ্রিল, ২০০৪ সালে হিথ স্ট্রিককে বাদ দেয়ার পর ১৫জন খেলোয়াড়ের একযোগে অসহযোগিতার সাথে তিনিও জড়িয়ে পড়েন। এরফলে, অনেকের সাথে তাঁকেও দল থেকে বাদ দেয়া হয় ও দৃশ্যতঃ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে সমাপ্তি ঘটেছে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অভিমত ছিল। পরের বছর পুণরায় খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান ও নতুন বিতর্কিত চুক্তিতে আবদ্ধ হন। কিন্তু, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও আর্থিক সংঘাতের ফলে আর খেলায় অংশ নেননি।

২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৫ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৬ রানে জয়লাভ করেছিল এবং দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় পায়। খেলায় তিনি ৩০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পরবর্তীতে এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বিদ্যালয় জীবনে রাগবি ও হকি খেলতেন। পরবর্তীতে ক্রিকেটের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। অবসরকালীন মৎস্যশিকারে যান। ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে ১০২ রান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে শতক হাঁকিয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কার মাটিতে জিম্বাবুয়ে দল মাত্র ৩৮ রানে গুটিয়ে গেলে সর্বাপেক্ষা তিক্ততাপূর্ণ অভিজ্ঞতার সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।

Similar Posts

  • |

    বিল এডরিচ

    ২৬ মার্চ, ১৯১৬ তারিখে নরফোকের লিংউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নরউইচভিত্তিক ব্রাকনডেল স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাইনর…

  • | |

    মাইক ব্রিয়ার্লি

    ২৮ এপ্রিল, ১৯৪২ তারিখে মিডলসেক্সের হ্যারো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও লেখক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ‘ব্রিয়ার্স’ বা ‘স্কাগ’ ডাকনামে পরিচিতি পাওয়া মাইক ব্রিয়ার্লি ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। এক পর্যায়ের ইংল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তাঁর দক্ষ পরিচালনায়…

  • | | |

    স্যামি উডস

    ১৩  এপ্রিল, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যাশফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮৩ সালে ১৪ বছর বয়সে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে চলে আসেন। শিক্ষা গ্রহণের পর আর তিনি দেশে ফিরে যাননি।…

  • |

    ম্যাথু হার্ট

    ১৬ মে, ১৯৭২ তারিখে ওয়াইকাতোর হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিনার ছিলেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সময়কালে…

  • | |

    স্যাম স্ট্যাপলস

    ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৮৯২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের নিউস্টিড কোলিয়ারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তরুণ অবস্থায় স্থানীয় কয়লা শ্রমিকদের সাথে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। কিছুটা স্লো-মিডিয়াম পেস ধরনের বোলিং করতেন। তবে, দ্রুততার সাথে…

  • | | |

    ডারমট রিভ

    ২ আগস্ট, ১৯৬৩ তারিখে হংকংয়ের কাউলুন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট, সাসেক্স ও ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, হংকংয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৩ থেকে…