৪ জুলাই, ১৯৭২ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে খেলতে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
‘স্পিয়ার্স’ ডাকনামে পরিচিত ক্রেগ স্পিয়ারম্যান ছয় ফুট উচ্চতার অধিকারী। অকল্যান্ডভিত্তিক কেলস্টোন বয়েজ হাই স্কুল এবং নিউজিল্যান্ডের ম্যাসি ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে এক বছর পূর্বেই পারস্পরিক সমঝোতায় গ্লুচেস্টারশায়ার ত্যাগের প্রস্তাবে রাজী হন। পূর্বেকার মৌসুমে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন তিনি। তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন দুই অংশে বিভক্ত ছিল।
ওডিআইয়ে শীর্ষসারিতে দারুণ খেলেছেন। একদিনের ক্রিকেটে একাধিপত্য বিস্তারের পর তাঁকে টেস্ট দলে যুক্ত করা হয়। তুলনান্তে লাল-বলের ক্রিকেটে বেশ সফল ছিলেন। কিন্তু, উভয় স্তরের ক্রিকেটেই ধারাবাহিক ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ক্রিকেট বিশ্লেষক ও কোচদের অভিমত, তাঁর সহজাত প্রতিভার কোন ঘাটতি ছিল না ও তিনি নিজেই তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
১৯৯৫ থেকে ২০০১ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট ও ৫১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪০ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মুশতাক আহমেদের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করলে সফরকারীরা ১৬১ রানে জয় তুলে নেয়। এরপর, ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত একই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
১৯৯৮ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১০ জুন, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৪ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। রমেশ কালুবিতরানা’র ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১৬৪ রানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। প্রসঙ্গতঃ টেস্টের ইতিহাসে পঞ্চম ঘটনা হিসেবে কোন দল প্রথম টেস্টে পরাজিত হলেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ জয় করে নেয়। পূর্ববর্তী চার মৌসুমে এটি চতুর্থ ঘটনা ছিল ও প্রথম দল হিসেবে শ্রীলঙ্কা দুইবার এ কৃতিত্ব প্রদর্শন করে। এছাড়াও, নিউজিল্যান্ড প্রথম দল হিসেবে প্রথম টেস্ট জয়ের পর তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে দুইবার পরাজয়বরণ করে।
২০০০-০১ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৩০ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হন। ১৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, নীল ম্যাকেঞ্জি’র অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই দলে সর্বদা আসা-যাবার পালায় ছিলেন। ২০০১ সালে ক্রিকেট জগৎ থেকে দূরে সড়ে যান ও ব্যাংকিং পেশায় মনোনিবেশ ঘটান। পেশা পরিবর্তনে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। লন্ডনে গ্লুচেস্টারশায়ারের কোচ জন ব্রেসওয়েলের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে যোগ দেন। এরফলে, কাউন্টি ক্রিকেটে অস্থায়ীভাবে যুক্ত হন। সুযোগের সদ্ব্যবহার ঘটান ও ক্লাবের অন্যতম তারকা ক্রিকেটারে পরিণত হন। দলের অধিকাংশ ট্রফি বিজয়ে অংশ নেন।
এক পর্যায়ে ডব্লিউজি গ্রেসের গড়া ১২৮ বছরের পুরনো সর্বোচ্চ রানের ক্লাব রেকর্ড ভেঙ্গে ফেলেন। ২০০৪ সালে গ্লুচেস্টারের আর্চডিকন মিডোতে মিডলসেক্সের বিপক্ষে ৩৪১ রানের ত্রি-শতক হাঁকান ও নতুন করে রেকর্ড বহিতে নাম লেখান। ২০০৮ সালে মিল্টন কেনেসে অনুষ্ঠিত খেলায় জোহানের ফন দার ওয়াদের বলে চোখে আঘাতের পূর্ব পর্যন্ত খেলতে থাকেন। কিন্তু, আঘাতের ফলে তাঁর কার্যকারিতা বহুলাংশে কমে যায়। ২০০৯ সালে চুক্তির এক বছর পূর্বেই তিনি কাউন্টি থেকে চলে আসেন।
