১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে ২০০০-এর দশক পর্যন্ত আগ্রাসী ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড দলের বিনোদনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মাঠে বেশ কিছু স্মরণীয় খেলা উপহার দিয়েছেন। খেলার জগৎকে বিদেয় জানিয়ে পরবর্তীতে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করেন।
হাত ও চোখের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। তাঁর পরিসংখ্যান তেমন ভালো না হলেও প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে নিউজিল্যান্ড দলকে কিছু সফলতা এনে দিয়েছিলেন। নাথান অ্যাসলে ও ক্রিস কেয়ার্নসের ন্যায় তিনিও বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে বেশ সফল হয়েছিলেন।
খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ইস্ট ক্রাইস্টচার্চ-শার্লির পক্ষে খেলতেন। কিশোর অবস্থায় ক্যান্টারবারি ও নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার স্বপ্নে বিভোঁর ছিলেন। ১৭ বছর বয়সে ক্যান্টারবারির অনূর্ধ্ব-২০ ও ১৯৯৪ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে ক্যান্টারবারির বড়দের দলে যুক্ত হন। ওতাগোর বিপক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
‘গ্ল্যাডিয়েটর’ ডাকনামে ভূষিত হন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ২০১৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার ও হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কলকাতা টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন। ওতাগোর বিপক্ষে তিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান। নিজস্ব দ্বিতীয় প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অকল্যান্ডের বিপক্ষে শতক হাঁকান। ব্যাপক অর্থে সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করেন। এছাড়াও, এ মৌসুমে লিস্ট-এ ক্রিকেটে শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন।
পরবর্তী দুই বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে পরিচিতি ঘটান ও জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হন। ১৯৯৭ সালের ঘরোয়া আসরে দারুণ খেলেন। তিনটি শতক ও দুইটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৭৩.৫৪ গড়ে আট খেলা থেকে ৮০৯ রান তুলেন। এ সুবাদে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৫৫ টেস্ট, ১৯৭টি ওডিআই ও আটটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে অংশ নিতে নিউজিল্যান্ড দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০ মে, ১৯৯৭ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক হয়। উদ্বোধনী খেলায় তিনি মাত্র ১০ রান তুলতে পেরেছিলেন ও তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। তবে, নিজস্ব চতুর্থ ওডিআইয়ে দারুণ খেলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলকে জয় এনে দেন। পাঁচ ছক্কা সহযোগে ৫৯ বল থেকে দ্রুতলয়ে ৬৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সুন্দর খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ টেস্ট দলে জায়গা পান।
১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ব্যক্তিগতভাবে সফলতা পেলেও তাঁর দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পরাজিত হয়। ৭ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক টেস্টে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক মার্ক টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৮৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২০ নভেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫৪ রানের সমকক্ষ হন। ৫৪ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্টিভ ওয়াহ’র দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭০ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৯৮ সালের শুরুতে জিম্বাবুয়ে দল খেলতে আসলে নিজস্ব চতুর্থ টেস্টে শতরানের ইনিংস খেলেন। ১৩৯ রান তুলে নিউজিল্যান্ডের সহজ বিজয়ে অংশ নেন। এছাড়াও, কয়েকটি ওডিআইয়ে দারুণ খেলে কার্যতঃ নিউজিল্যান্ড দলে স্থায়ী আসন গাড়েন।
১৯৯৮ সালে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৭ মে, ১৯৯৮ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে এসপি ফ্লেমিংয়ের (১৭৪*) সাথে চতুর্থ উইকেটে ২৪০ রানের জুটি গড়ে নতুন নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। এরফলে, ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবে জেএফ রিড ও এসএল বুকের গড়া ৮২ রানের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। এছাড়াও, এটি নিউজিল্যান্ডের পক্ষে যে-কোন উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল। পাশাপাশি, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে চতুর্থ উইকেটে যে-কোন দেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেরা জুটির মর্যাদা পায়। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে অকল্যান্ডে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমজে হর্ন ও এনজে অ্যাসলে’র মধ্যকার ২৪৩ রানের জুটি সর্বোচ্চ সেরার মর্যাদা পায়।
এছাড়াও, ১/৩১ ও ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ১৬৭ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, টেস্টের ইতিহাসে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো উপর্যুপরী তিন টেস্ট জয় করতে সমর্থ হয়। এরপূর্বে দলটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট জয় করেছিল। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা দল নিজ দেশে একাধারে আট টেস্ট অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে প্রথম পরাজয়বরণ করে।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ষষ্ঠ উইকেটে সিএল কেয়ার্নসের (৬১) সাথে নিয়ে ১৩৭ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। এরফলে, ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত টেস্টে জেডব্লিউ গাই ও এআর ম্যাকগিবনের সংগৃহীত ৮৭ রানের রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ২৪ ও ৭৪* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/০ ও ১/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, সায়মন ডৌলের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
কিন্তু, ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তিনি বেশ ম্রিয়মান ছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে আবারও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের পরপরই নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ে অংশ নেন। ম্যানচেস্টারের তৃতীয় টেস্টে নিজস্ব দ্বিতীয় শতক হাঁকান ও সফরকারী দলকে বড় ধরনের ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
হ্যামিল্টনে পাকিস্তানের মুখোমুখি হন। ইউনুস খানের এক ওভার থেকে ২৬ রান আদায় করে নেন। ঐ সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক ওভারে সর্বাধিক রান সংগ্রহের তৎকালীন রেকর্ডের সাথে যুক্ত থাকেন।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০০০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সিআর মিলারকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/২৭। খেলায় তিনি ৩/৫৭ ও ০/১৩ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০০-০১ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৫০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫৮ ও ৩১* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পল ওয়াইজম্যানের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে নাসের হুসাইনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩০ মার্চ, ২০০২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৪১ রানে পৌঁছলে টেস্টে ২৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ড্যারিল টাফি’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাজিত হলে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়।
একই মৌসুমে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ১ মে, ২০০২ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৩/৫৭। খেলায় তিনি ৩/৪৮ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ইনজামাম-উল-হকের অসাধারণ ত্রি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩২৪ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ মার্চ, ২০০৪ তারিখ থেকে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। ব্যক্তিগত ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমে তৃতীয় দিন প্রথম ইনিংসে ৭২ রানে পৌঁছানোকালে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ১/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ক্রিস মার্টিনের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পায়। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো স্বাগতিকরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট জয় করে। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রায়শঃই অধিক ওজন ও শারীরিক অসচেতনতার কারণে সমালোচিত হন। পরবর্তীতে জানা যায় যে, তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
৩১ বছর বয়সে ১৭ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে টি২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শেষে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এ প্রতিযোগিতায় ৪০.৭৫ গড়ে ও ১৮১ স্ট্রাইক রেটে ১৬৩ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ডের সর্বাধিক রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এরপর, অনুমোদনহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগের সাথে যুক্ত হন। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে, ২০০৯ সালে ঐ লীগ ত্যাগ করে এক বছরের চুক্তিতে ক্যান্টারবারিতে খেলেন।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। নিউজিল্যান্ড দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, স্কাই নেটওয়ার্ক টেলিভিশন ও আইপিএলে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ২৫ আগস্ট, ২০২০ তারিখে শ্রীলঙ্কা সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়। তবে, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ তারিখে পারিবারিক সমস্যার কারণে এ দায়িত্ব পালন করেননি।
