১৯ আগস্ট, ১৯৮৫ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। জিম্বাবুয়ে দলের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। খুব কমসংখ্যক ক্রিকেট বিশ্লেষকই জিম্বাবুয়ের পক্ষে তাঁর অংশগ্রহণে আশ্চর্য্যান্বিত হয়েছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী ও প্রতিভাবান বামহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। স্বীয় ভ্রাতার ন্যায় তিনিও রানের চাকা গতিশীল রাখতে তৎপর ছিলেন। ফাঁকা জায়গায় বল ফেলে দ্রুত রান তুলতে সচেষ্ট হন। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে পিতা রোরি আরভিন ও কাকা নীল আরভিন – উভয়েই পেশাদারী পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। দৈহিকভাবে তুলনামূলকভাবে ছোট গড়নের অধিকারী জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শন আরভিন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হিসেবে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পর হ্যাম্পশায়ারের মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ডে রয়েছেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা রায়ান আরভিন জিম্বাবুয়ের বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলছেন।
আদৌ ক্রিকেট খেলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে অনেকেই সন্দীহান ছিলেন। কেননা, শৈশবকালে ঘুমন্ত অবস্থায় বসতঘরে ভাঙ্গা কাঁচে ডানহাত কেঁটে যায় ও তিন ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করতে হয়। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, মিডল্যান্ডস ও সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলেছেন।
চিনহোয়ির শহরতলীতে লোমাগুন্ডি কলেজে এ-লেভেলে অধ্যয়নকালীন মাঝামাঝি সময়ে ধ্রুপদীশৈলী ও বেপরোয়া ব্যাটিংয়ের কারণে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমিতে অধ্যয়নের জন্যে মনোনীত হন। অল্প কিছুকাল পরই মিডল্যান্ডসের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ১৯ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত খেলায় মিডল্যান্ডসের সদস্যরূপে ম্যাশোনাল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের পক্ষে খেলেন।
নিজেকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে ইংল্যান্ড গমন করেন। ইংরেজ ক্লাব বেক্সহিল ও লর্ডহুডের পক্ষে খেলার পর বেলফাস্টভিত্তিক আইরিশ ক্লাব লিসবার্নের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে ফিরে আসেন। মাসভিঙ্গোভিত্তিক বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। অভিষেক মৌসুমেই ৩৩.৮২ গড়ে রান তুলে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে আরোহণ করেন। এছাড়াও, ৫৭৫ রান তুলে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন।
২০০৯-১০ মৌসুমে লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। এছাড়াও, একদিনের খেলায় রান গড়ে সর্বোচ্চ স্থান দখল করেন। এরপর, ঘরোয়া টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও সাধারণমানের খেলা উপহার দেন। তাসত্ত্বেও, জিম্বাবুয়ের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০১০ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩ মে, ২০১০ তারিখে প্রভিডেন্সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তবে, তিনি ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি ও ডাকওয়ার্থ/লুইস পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কা দল জয় পায়। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন। নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। প্রস্তুতিমূলক খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর দল বিস্ময়কর জয় পায়। এল্টন চিগুম্বুরা’র সাথে ১১৪ রানের জুটি গড়ে দলের সাফল্যে নিজেকে জড়ান।
এরপর, ২৮ মে, ২০১০ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেক হয়। ৬০ বল মোকাবেলা করে ৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের ছয় উইকেটের জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। এরপর থেকেই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া পর্যায়ের আসরেও বেশ ভালো খেলতে থাকেন ও রানের ফুলঝুড়ি ছোটাতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হয়েছিল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বেশ ভালো খেলা উপহার দেন। তবে, প্রাণান্তঃকর চেষ্টা চালানো সত্ত্বেও দলকে প্রতিযোগিতার নক-আউট পর্বে নিয়ে যেতে পারেননি।
স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে জিম্বাবুয়ের প্রত্যাবর্তনকালে তিনিও দলে ফিরে আসেন। প্রায় ছয় বছর টেস্ট খেলা থেকে দূরে থাকার পর জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্রায়ান ভিটোরি, কাইল জার্ভিস ও টিনো ময়োয়ু’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ধৈর্য্যশীল ৩৫ রান তুলে দলনায়ক ব্রেন্ডন টেলরকে যথোচিত সহায়তা করে জিম্বাবুয়ে দলকে ১৩০ রানের ব্যবধানে বিজয়ী করতে সহায়তা করেন।
শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, এ প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকা পালন করতে পারেননি। অন্য যে-কোন জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটারের তুলনায় তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে অধিক ছন্দহীনতা লক্ষ্য করা যায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর্থিক সঙ্কট নিয়ে জিম্বাবুয়ের টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর চার টেস্টে অংশ নেন। এক পর্যায়ে দৃশ্যতঃ তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন সঠিকভাবেই অগ্রসর হচ্ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে ৬০.৫০ গড়ে রান পেয়েছিলেন। ঐ সফরে সকল স্তরের খেলায় দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। দেশে ফিরে আসার পর এপ্রিল, ২০১৩ সালে জেডসি কর্তৃক শীতকালীন চুক্তিতে উপনীত হতে অস্বীকার করেন। স্বীয় ভ্রাতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুক্তরাজ্যে চলে যান। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ক্রিকেটে লিসবার্ন ও গ্রেড ক্রিকেটে মর্লের পক্ষে খেলেন। এরফলে, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট থেকে আরও একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতনের কবলে পড়ে।
তবে, ১৮ মাস পর ২০১৪-১৫ মৌসুমকে ঘিরে আরও একবার জিম্বাবুয়ে দলে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ গমন করেন। তিন-টেস্টের সবকটিতেই অংশ নেন। তবে, তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখছিলেন। কয়েকটি খেলায় দারুণ ইনিংস খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে বেশ ধীরলয়ে অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে থাকেন। ২ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম ওডিআই শতক হাঁকান ও দলকে তিন শতাধিক রান তুলতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। ৬ আগস্ট, ২০১৬ তারিখে একই দলের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতরানের সন্ধান পান। তবে, খেলায় একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে নিউজিল্যান্ড দল ইনিংস ও ২৫৪ রানে জয় তুলে নেয়।
২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অন্যতম সেরা খেলা উপহার দেন। সিরিজের চতুর্থ ওডিআইয়ে ৬৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়লাভের পাশাপাশি ২-২ ব্যবধানে সিরিজে সমতা আনয়ণে বেশ ভূমিকা পালন করেছিলেন ও পরবর্তীতে পঞ্চম ওডিআইয়ে বিজয়ী হলে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয় করতে সমর্থ হয় জিম্বাবুয়ে দল।
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ তারিখে দলের নিয়মিত অধিনায়ক শন আরভিনের প্রথম সন্তান জন্মগ্রহণের পূর্বে দলের বাইরে থাকলে বাংলাদেশের বিপক্ষে অধিনায়কত্ব করার জন্যে মনোনীত হন। ১ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআইয়ে পাকিস্তানী বোলার মুহাম্মদ মুসা’র প্রথম উইকেটের শিকারে পরিণত হন।
২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের অধিনায়কত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন। ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ১৩ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেন। তবে, তেজনারায়ণের চন্দরপলের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে গুদাকেশ মোতি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪ রানের ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়াও, ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ২২ ও ৭২ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি প্রথম ইনিংসে ১৭৬ বল মোকাবেলায় ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর এ শতকটি চতুর্থ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ছিল। এ পর্যায়ে ৩৫.৩২ গড়ে ১৪৪৮ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ২২* রান সংগ্রহ করেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে জিম্বাবুয়ীয় দলকে নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। খেলায় তিনি ৪২ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শোয়েব বশীরের অনবদ্য কৃতিত্বে সফরকারীরা চারদিনের টেস্টটি তিনদিনেই পরাজয়বরণ করে। ইনিংস ও ৪৫ রানে জয়লাভ করে ইংল্যান্ড দল। এরফলে, ইংল্যান্ড দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের চারটিতে জয়লাভ করে ও একটি ড্র হয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৩ রানে জয়লাভ করে।
