৩১ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে ক্যান্টারবারির তিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ে কয়েক মৌসুম দূর্দান্ত খেলেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে ওতাগোর পক্ষে ৪৬.৯৩ গড়ে ৭৫১ রান তুলেন। এছাড়াও, ২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রায় ৬০-এর কাছাকাছি গড়ে ৭৮৪ রান তুলে শীর্ষস্থানে আরোহণ করেন। ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অধিনায়কত্ব করেন।
২০০৩ থেকে ২০০৯ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয়সারির ওডিআই দলের সদস্যেরূপে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২৯ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু, প্রথম বারোটি খেলার কোনটিতেই অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলতে না পারায় পরের মৌসুমে দল থেকে বাদ পড়েন।
২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ মার্চ, ২০০৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইয়ান ও’ব্রায়ানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তাঁর চমৎকার টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল। গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্ন ও জেসন গিলেস্পিসমৃদ্ধ অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে ৭৪ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তীতে এটিই তাঁর একমাত্র অর্ধ-শতকে পরিণত হয়। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারী ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০৫ সালে ব্রেট লি’র ঘণ্টাপ্রতি ১৬০.৮ কিলোমিটার গতিবেগের বল মোকাবেলায় স্মরণীয় হয়ে আছেন ও তাঁর মুখে বলটি আঘাত লাগে। এক্স-রেতে তাঁর চিবুকে ফাটল ও চোয়াল ভাঙ্গা ধরা পড়ে। তাঁর দৃষ্টিতে বলটি অনেকাংশে গল্ফ বলের আকৃতি ছিল ও মুখের গড়ন ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়। এরফলে, এ আঘাত তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনকে সমাপ্তি করতে কম-বেশী ভূমিকা রাখে।
২০০৪-০৫ ও ২০০৬-০৭ মৌসুমে নিজ দেশে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুইবার খেললেও কোনবারই অর্ধ-শতকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। তবে, বেশ কয়েকবার দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলী মানসম্মত ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁর সক্ষমতার কথা বিবেচনায় এনে ২০০৭-০৮ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাঁকে দলে যুক্ত করে। কিন্তু এ সফর থেকে বেশ আগেভাগেই তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। ডেল স্টেইনের বাউন্সারে তাঁর চিবুকে ফাটল ধরে ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
দারুণ ব্যাটিং কৌশল অবলম্বনে খেলার জগতে প্রবেশ করলেও শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা পরবর্তীতে আর ধরে রাখতে পারেননি। এরপর, দল থেকে বাদ পড়েন। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে দলে ফিরে আসলেও তেমন সফলতার সন্ধান পাননি। ওডিআইয়েও তেমন সুবিধে করতে পারেননি।
২০০৭-০৮ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৮ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ৭ রান সংগ্রহ করেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩৫৮ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ১২ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০১২ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। স্কাই স্পোর্টে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া খেলাগুলোর সম্প্রচারে যুক্ত থাকেন। এনজেডসি কর্তৃক তৃতীয় স্তরের কোচ হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর থেকে ওতাগো ক্রিকেট পাথওয়েজের আওতায় পাঁচ বছর পুরুষ ও মহিলাদের খেলায় কোচ হিসেবে যুক্ত ছিলেন। কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯ আগস্ট, ২০২০ তারিখে এসবিএস ব্যাংক ওতাগো স্পার্কসের প্রধান কোচ হিসেবে নাথান কিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হন।
