৭ অক্টোবর, ১৯৩৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দীর্ঘ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ও প্রশস্ত কাঁধ ছিল তাঁর। বেশ দূরত্ব নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। নতুন বলে আউট-সুইং ও পুরনো বলে অফের দিকে কাট উপযোগী বল করতেন। নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যান ছিলেন। বেশ প্রতিরক্ষাব্যূহ গড়ে তুলে শক্তিধর ড্রাইভ মারতেন। এছাড়াও, সীমানা বরাবর দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতে পারতেন।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ২৭ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ২৪.৩৮ গড়ে ৯৫ উইকেট পেয়েছিলেন ও ১৫.৮৬ গড়ে ৫৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, মেলবোর্নে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের সেরা খেলা প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৭/৯৫ লাভ করেন ও খেলায় ১৩৪ রান খরচায় ১০ উইকেট দখল করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে তাঁকে জাতীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেন।
১৯৬৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যারি শেফার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কেন ম্যাককে’র স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ২২২তম ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ঐ খেলায় কোন উইকেট লাভে সক্ষম হননি। প্রথম ইনিংসে তাঁর বোলিং বেশ এলোমেলো ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র দুই ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। খেলায় তিনি ০/৫১ ও ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অপর অভিষেকধারী ব্যারি শেফার্ডের সাথে শেষ উইকেট জুটিতে ৩৯ রান তুলেছিলেন। এরফলে, প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক দল এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় চলে আসে।
ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ৩৬ খেলা থেকে ১১৫ উইকেট লাভের অধিকারী হয়েছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। এক পর্যায়ে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। অনূর্ধ্ব-১৮ দলকে প্রশিক্ষণ দেন। ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে মেলবোর্নে ৮১ বছর ৬২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। অ্যাডিলেডে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন তাঁর স্মরণে অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়েরা ফিল্ডিংকালে কালো বাহুবন্ধনী ধারন করে।
