১৭ জানুয়ারি, ১৯২৬ তারিখে বার্বাডোসের নিউ অর্লিয়েন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি, কোচ, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ক্লাইড ওয়ালকট বার্বাডোসভিত্তিক হ্যারিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস ও ব্রিটিশ গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪১-৪২ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৬ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে বার্বাডোসের সদস্যরূপে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। তবে, ১৯৪৬ সালে পোর্ট অব স্পেনে ত্রিনিদাদের বিপক্ষে খেলায় দূর্দান্ত খেলে নিজেকে প্রথমবারের মতো মেলে ধরেন। এ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের সহপাঠী ফ্রাঙ্ক ওরেলকে সাথে নিয়ে ৫৭৪ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে স্মরণীয় করে রাখেন। ঐ খেলায় প্রতিপক্ষীয় বোলারদেরকে মাঠের সর্বত্র ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন।

১৯৪৮ সালে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনকে অন্যদিকে নিয়ে যান। বার্বাডোসের সদস্যরূপে ঐ খেলায় শতক হাঁকান। দল নির্বাচকমণ্ডলী দ্রুত তাঁকে টেস্ট সিরিজে যুক্ত করেন।

১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। দলটির বিপক্ষে নিজের প্রথম চার টেস্ট খেলেন। তবে, দলে প্রভাব ফেলতে হিমশিম খান। ২১ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বার্কলি গাসকিন, এভারটন উইকস, জন গডার্ড, প্রায়র জোন্স, রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি ও উইল্ফ ফার্গুসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৮ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনের অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এভারটন উইকসের ন্যায় তিনিও ১৯৪৮ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজের সেরা খেলা উপহার দেন। পাঁচ টেস্ট থেকে ৪৫২ রান তুলেন। ইংল্যান্ডে ফিরতি সফরেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। থ্রী ডব্লিউ’র সাথে সনি রামাদিন ও আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের স্পিনে স্বাগতিক দলকে কুপোকাত করতে ভূমিকা রাখেন এবং প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ বিজয়ে অংশ নেন।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১১৫ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে বিজয় হাজারে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিজ দেশে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ মার্চ, ১৯৬০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫৩ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এক পর্যায়ে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন। আইসিসি ম্যাচ রেফারি হিসেবে ১৯৯২ সালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের মধ্যকার তিন টেস্ট পরিচালনা করেছিলেন। ২০০০ সালে ক্রিকেট কমিটির সভাপতি হিসেবে লর্ডসে অনুষ্ঠিত আইসিসি সভায় যোগ দেন। এছাড়াও, ১৯৬৮ থেকে ১৯৭০ সময়কালে গায়ানা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫৮ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ১৯৬৬ সালে ওবিই পদবী লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে ক্রিকেটে অসামান্য ভূমিকা পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ নাইটহুড খেতাবপ্রাপ্ত হন। তাঁর সম্মানার্থে স্যার ফ্রাঙ্ক ওরেলের সাথে কেনসিংটন ওভালের একটি ছাউনি দি ওরেল, ওয়ালকট এন্ড উইকস স্ট্যান্ড নামে নামকরণ করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এমএসি ওয়ালকট নামীয় সন্তানের জনক। ২৬ আগস্ট, ২০০৬ তারিখে বার্বাডোসে ৮০ বছর ২২১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    জেমস ক্রান্সটন

    ৯ জানুয়ারি, ১৮৫৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বোর্ডস্লে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, বামহাতে বোলিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। টানটন কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সতেরো বছর বয়সে দলটির সাথে প্রথম যুক্ত হন।…

  • | |

    বিজয় যাদব

    ১৪ মার্চ, ১৯৬৭ তারিখে উত্তরপ্রদেশের গণ্ডা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইকেট-রক্ষণে তাঁর সহজাত দক্ষতা ছিল। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হরিয়াণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে রঞ্জী…

  • | |

    জ্যাক ব্ল্যাকহাম

    ১১ মে, ১৮৫৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ‘উইকেট-রক্ষকদের রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ঊনবিংশ শতকের শুরুরদিকে ক্রিকেটকে মহীয়ান করে গেছেন। দূর্দান্তভাবে ও দক্ষতার সাথে উইকেট-রক্ষণ…

  • | |

    হারুন রশীদ

    ২৫ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জেকিল ও হাইড’ ধরনের ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিষ্প্রাণ পিচে অন্যতম দর্শনীয় ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত…

  • | |

    ড্যানি মরিসন

    ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বিপজ্জ্বনক আউট-সুইঙ্গারের পাশাপাশি পেস বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম গতিদানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। দৃশ্যতঃ রিচার্ড হ্যাডলি’র উপযুক্ত উত্তরসূরী ছিলেন।১৯৮০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর…

  • | |

    সাকিব আল হাসান

    ২৪ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে যশোরের মাগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় রাখছেন। বাংলাদেশ দলের সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খন্দকার মাসরুর রেজা ও শিরিন রেজা দম্পতির সন্তান তিনি। ২০০৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…