|

ক্লিফোর্ড রোচ

১৩ মার্চ, ১৯০৪ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

রক্ষণাত্মক ধাঁচে খেলতে ভালোবাসতেন। তবে, বোলার বরাবর বলকে ঠেলতেন। এমনকি নতুন বলেও এ ধারায় ব্যাটিং করতেন। দারুণ স্ট্রোক খেলতেন। শুরুতে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তবে, ইনিংস উদ্বোধনে নামার পর থেকে তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ছন্দে থাকাকালে সামনের ও পিছনের পা ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দন ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। এ ধরনের দর্শনীয় শট খেলার কারণে দর্শকদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। কভার অঞ্চলে প্রাণবন্তঃ ভূমিকা রাখতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৩-২৪ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

১৯২৮ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ১৬ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে সংগৃহীত দুইটি শতরানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, একটি দ্বি-শতক ছিল। খোলা ইংরেজ পিচে শুরুতে হিমশিম খেলেও সময়ের সাথে সাথে নিজেকে সামলে নেন ও রান তুলতে থাকেন।

১৯২৮ সালে আর. কে. নুনেসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় মাঝারিসারিতে খেলতে নেমে শূন্য রানে রান-আউট হন ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬ রান তুলেন। ইনিংস ও ৫৮ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, ১৯২৯-৩০ মৌসুমে বার্বাডোসে সিরিজের প্রথম টেস্টে আক্রমণাত্মক পন্থা অবলম্বন করেন। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে সম্মানীয় এফ. এস. জি. ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ১২২ রানের মনোরম শতরানের ইনিংস খেলেন। ২২টি চারের মারে গড়া ঐ ইনিংসটি তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম ছিল। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৭৭ রান তুলেন। পরবর্তীতে, দুই টেস্ট পর জর্জটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম দ্বি-শতক হাঁকানোর সাথে নিজেকে জড়ান। তাঁর সংগৃহীত ২০৯ রান এবং জর্জ হ্যাডলি’র জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ২৮৯ রানের জয় তুলে নেয়। এটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট জয় ছিল। তিনটি ছক্কা ও ২৩টি চারের মারে ইনিংসটি সাজান। প্রথম উইকেটে কনরাড হান্টের সাথে ১৪৪ ও জর্জ হ্যাডলি’র সাথে ১৯২ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় শতক করতে ৭৪ মিনিট ব্যয় করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে লেস অ্যামিসের বলে ২২ রানে স্ট্যাম্পিং হন। তবে, পোর্ট অব স্পেনের নিজ মাঠে জোড়া শূন্য রান সংগ্রহ করেছিলেন।

একই সফরের ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৫ ও ২২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২২ ও ১/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়।

১৯৩০-৩১ মৌসুমে জ্যাকি গ্রান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২০ ও ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১২২ রানে পরাজিত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৯ ও ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৪ উইকেটে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেটের বাইরে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ত্রিনিদাদ ও টোবাগো স্পোর্টস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। শেষ জীবনে এসে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। এক পর্যায়ে উভয় পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। ১৬ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে ৮৪ বছর ৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টের সর্বশেষ সদস্য ছিলেন।

Similar Posts

  • | | |

    জেরেমি কোনি

    ২১ জুন, ১৯৫২ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মজবুত গড়নের অল-রাউন্ডার ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলে স্বল্প সময়ের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করলেও বেশ সফল ছিলেন। গড়পড়তা নিউজিল্যান্ডীয় বালকদের সাথে তাঁর শৈশবকালও তেমন বৈচিত্র্যময় ছিল না। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে রাগবি খেলায় জড়িয়ে…

  • |

    ড্যারিল টাফি

    ১১ জুন, ১৯৭৮ তারিখে ওতাগোর মিল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী তিনি। পর্যাপ্ত পেস ও নিখুঁতভাব বজায় রেখে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, চমৎকার আউট-সুইঙ্গার বোলিং করতে পারতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম…

  • |

    আতা-উর-রেহমান

    ২৮ মার্চ, ১৯৭৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তানের নতুন প্রজন্মের পেস বোলিং আক্রমণে আতা-উর-রেহমানের উদ্ভব ঘটে। ওয়াসিম-ওয়াকার জুটিকে আরো শক্তিশালী ও সহায়তাকরণে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়। ১৯৯০-৯১…

  • |

    আকাশ দীপ

    ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে বিহারের রোতাসের দেহরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। ভারতের পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা ও বহিঃভারত দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রয়েল চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯…

  • | |

    ক্রিস কাগেলিন

    ১০ মে, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত তিনি। অনেকাংশে সীমিত-ওভারের উপযোগী ছিলেন। মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতেন। অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও দারুণ ছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম…

  • |

    টম আর্মিটেজ

    ২৫ এপ্রিল, ১৮৪৮ তারিখে ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ডের ওয়াক্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৫ জুন, ১৮৭২ তারিখে কেইলি বনাম ওয়াকফিল্ডের মধ্যকার খেলার প্রথম ইনিংসে আট উইকেট ও দ্বিতীয় ইনিংসে দশ উইকেটের সবগুলো করায়ত্ত্ব করেন।…