|

ক্লিফ গ্ল্যাডউইন

৩ এপ্রিল, ১৯১৬ তারিখে ডার্বিশায়ারের ডো লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৯ সালে ডার্বিশায়ারের পক্ষে একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে নিজের স্বর্ণালী সময় অপচয় করতে বাধ্য হন ও ৩০ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা পুণরায় শুরু হলে তিনি নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। এ বয়সে এসেও যুদ্ধ পরবর্তী ১৩ বছরের ১২টিতেই ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। কেবলমাত্র ১৯৫০ সালে এ অর্জনের সাথে নিজেকে জড়াতে পারেননি ও ৯৪ উইকেট দখল করেছিলেন। প্রধানতঃ ক্রিকেট খেলা থেকে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

খুব সহজেই ডার্বিশায়ারের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ক্রিকেট খেলা চালু হলে প্রথম বছরেই ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ৭/৪১ ও ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৭/১০৮ পেয়েছিলেন। পরবর্তী জুনে বাক্সটনে অনুষ্ঠিত খেলায় ৯/১১৯ ও ৫/৪০ লাভ করলেও ল্যাঙ্কাশায়ার দল ৩ রানের নাটকীয় জয় পায়। এরফলে, কয়েক সপ্তাহ পরই ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে নিজ দেশে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কেন ক্রান্সটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ডেনিস ডায়ারব্রুস মিচেলসমৃদ্ধ দলটির বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫০ ওভার বোলিং করে ২/৫৮ লাভ করেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ওভালের দ্বিতীয় টেস্টে কোন উইকেটের সন্ধান না পেলেও দেড় ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

একই সফরের ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৬ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩৯ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে জয়লাভ করে।

১৯৪৮ সালে শক্তিধর অস্ট্রেলিয়া দল ইংল্যান্ড সফরে আসলে তাঁকে বাদ দিয়ে জ্যাক পোলার্ড ও অ্যালেক্স কক্সনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এনবিএফ মানকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৫৮। খেলায় তিনি ৩/২১ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৪৩ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৯ ও ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৪৯ সালে নিজ দেশে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে ১৮.৩০ গড়ে ১৬৫৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

৯ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে ডার্বিশায়ারের চেস্টারফিল্ড এলাকায় ৭২ বছর ৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট