|

ক্লড বাকেনহাম

১৬ জানুয়ারি, ১৮৭৬ তারিখে লন্ডনের হার্ন হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ডালউইচের অ্যালিয়েন স্কুলে অধ্যয়ন করেন। তবে, লেটনে এসে ক্রিকেটের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। গোঁফের কারণে বর্ণাঢ্যময় খ্যাতি লাভ করেন। পর্যাপ্ত উঁচুতে বল ফেলতেন। কখনোবা বিক্ষিপ্ত গতিবেগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন।

১৮৯৯ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৯ থেকে এসেক্সের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ঐ সময়ে এসেক্সের ফিল্ডিংয়ের মান সাধারণমানের থাকায় খেলোয়াড়ী জীবন শেষে তাঁর বোলিং গড়ে ২৫ ঊর্ধ্ব হয়। বেশ দেরীতে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯০৬ সালে প্রথমবারের মতো তিনি ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৩৩ বছর। পরবর্তী পাঁচ মৌসুমেও ১০০ উইকেট লাভের ধারা অব্যাহত রাখেন।

১৯১০ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সবগুলো টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভাল টেস্টে তাঁকে দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। তবে, শেষ মুহূর্তে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। সিডনি পারডন এ সিদ্ধান্তকে ‘মারাত্মক ত্রুটি’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

১৯০৯-১০ মৌসুমে শ্রিম্প লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের সুযোগ পান। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। হেনরি লেভসন গাওয়ার, বার্ট স্ট্রাডউইক, জিএইচটি সিম্পসন-হেওয়ার্ড ও মরিস বার্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৩/৭৭ ও ৪/১১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৯ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে সিই ফ্লোকেটকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/১১০। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১১৫ ও ০/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকে।

এরপর, ৭ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৬১ ও ১/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ১৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বার্ট ভগলারের শিকারে পরিণত হন। স্বাগতিকরা ৪ উইকেটে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো অংশ নিয়ে ২৮ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেছিলেন। লব বোলার জর্জ সিম্পসন-হেওয়ার্ডের সাথে থেকে বেশ ভালো করেন। ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম অদ্ভূত জুটি গড়েন।

দেশে ফিরে ১৯১০ সালে ১১৮ উইকেট ও ১৯১১ সালে ১৩৪ উইকেট লাভ করেছিলেন। তবে, ৩৮ বছর বয়সে এসে ১৯১১-১২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে তাঁকে মনোনীত করা হয়নি। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। এসেক্স ও আপ্টন পার্ক এফসির পক্ষে রাইট ব্যাক অবস্থানে ফুটবল খেলতেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে স্কটল্যান্ডের ডান্ডি এলাকায় স্বল্প রোগে ভুগে নিজ গৃহে ৬১ বছর ৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | |

    লালচাঁদ রাজপুত

    ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে আসাম, বোম্বে ও বিদর্ভের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্কটল্যান্ডের পক্ষে…

  • | |

    রোশন মহানামা

    ৩১ মে, ১৯৬৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ম্যাচ রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের…

  • | |

    বিলি ইবাদুল্লাহ

    ২০ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৭২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাঞ্জাব, নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তাসমানিয়া ও…

  • |

    ডেল হ্যাডলি

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের রিকার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার ছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পেস বোলিং করতেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং না করলেও ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। এছাড়াও, বলকে সুইং করাতে পারতেন। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে পারতেন না। ক্রমাগত পিঠের আঘাতের…

  • |

    ডিক পিলিং

    ১১ আগস্ট, ১৮৫৫ তারিখে বেডফোর্ডশায়ারের ওল্ড ওয়ার্ডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেডফোর্ডশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও নবজাতক অবস্থায় অ্যাক্রিংটনের কাছাকাছি চার্চে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…

  • | |

    শহীদ আফ্রিদি

    ১ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে খাইবার এজেন্সিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকরী ও মারকুটে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের প্রথিতযশা অল-রাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন। সুইংয়ের সুলতান, স্পিনের যাদুকর ও বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান…