|

ক্ল্যারি গ্রিমেট

২৫ ডিসেম্বর, ১৮৯১ তারিখে ডুনেডিনের ক্যাভারশাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

রিচার্ড জেমস গ্রিমেট ও মেরি দম্পতির সন্তান ছিলেন। এক পর্যায়ে পরিবারটি ওয়েলিংটনে চলে যায়। সেখানকার মাউন্ট কুক বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। প্রথম লেগ-স্পিনার হিসেবে ফ্লিপারের প্রয়োগ ঘটান ও ব্যাটসম্যানদেরকে বিভ্রান্তিতে ফেলেন। এছাড়াও, বিল ও’রিলির সাথে জুটি গড়ে সাড়া জাগিয়েছেন। বিস্ময়করভাবে তিনি ফাস্ট বোলার হতে চেয়েছিলেন। তবে, সময়ের সাথে সাথে নিজেকে লেগ-স্পিনার হিসেবে রূপান্তরিত করেন। অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন ও অল্প সময়ের মধ্যেই সিডনিতে ক্লাব ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে সামনের দিকে নিজেকে নিয়ে যেতে থাকেন।

১৯১১-১২ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়া এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৯ সালে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে শেফিল্ড শীল্ডে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

১৯২৫ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৩৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। বেশ বয়েস নিয়ে ৩৪ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার সুযোগ পান। তবে, নষ্ট হয়ে যাওয়া সময়ের পূর্ণতা আনয়ণে নিজস্ব প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১ উইকেট দখল করেছিলেন। নিজের শেষ টেস্ট সিরিজে ৪৪ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অ্যালান কিপাক্সের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫/৪৫ ও ৬/৩৭ পেয়েছিলেন। ৪০,০০০ দর্শকের সামনে খেলে রং’আনের মাধ্যমে ফ্রাঙ্ক ওলিকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১২* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০৭ রানে জয়লাভ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। তন্মধ্যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাপক সফলতা পান। অভিজ্ঞতাবিহীন ব্যাটসম্যানেরা তাঁর বল বিশেষতঃ ফ্লিপার মোকাবেলায় বেশ হিমশিম খান।

ফ্লিপারের উদ্ভাবনের কারণে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। প্রচলিত রয়েছে যে, ব্যাপকসংখ্যক ফ্লিপার করার ফলে ডন ব্র্যাডম্যান রসিকতা সহযোগে বলেছিলেন যে, তিনি হয়তোবা লেগ-স্পিন ভুলে গেছেন।

১৯৩৪ সালে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/১০৩ ও ৫/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৫৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৫  রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৮ ও ৩/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৭/৮৩। এ পর্যায়ে এসিবি ল্যাংটনের চতুর্থ উইকেট লাভ করে ২০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৩/৭০ ও ৭/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৮৪ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ৭/১০০ ও ৬/৭৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ফন ডার মারউইককে বিদেয় করে সর্বশেষ ও ২১৬তম উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৬ রানে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

স্পিন বোলিংয়ের সঙ্গী বিল ও’রিলি একদা অভিযোগ করেছিলেন যে, ডন ব্র্যাডম্যানের কারণেই অনেক আগেভাগেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটেছিল। অদ্যাবধি তিনি অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা স্পিন বোলারের মর্যাদা পান।

টেস্টগুলো থেকে ২৪.২১ গড়ে ২১৬ উইকেটসহ ১৩.৯২ গড়ে ৫৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতি টেস্ট থেকে গড়ে প্রায় ছয় উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে কেবলমাত্র একবারই নো-বল ডাক শুনেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২২.২৮ গড়ে ১৪২৪ উইকেট ও ১৭.৬৭ গড়ে ৪২৭০ রান তুলেছিলেন।

১৯৩১ সালে ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এর ৬৫ বছর পর ১৯৯৬ সালে তাঁকে মরণোত্তর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ১০জন উদ্বোধনী সদস্যের অন্যতম ছিলেন। তেরো বছর বছর ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে তাঁকে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে যুক্ত করা হয়। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯১ তারিখে স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া হল অব ফেমে ঠাঁই পান।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ২ মে, ১৯৮০ তারিখে অ্যাডিলেডের কেনসিংটন পার্কে ৮৮ বছর ১২৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    কিথ দাবেঙ্গা

    ১৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ও কিঞ্চিৎ শক্তিধর হলেও মাঠে বেশ দৌঁড়ুতে পারেন। বুলাওয়েভিত্তিক বাইনেস জুনিয়র ও মিল্টন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। লীগের খেলায় সুন্দর ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১…

  • |

    লাহিরু গামাগে

    ৫ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে মারাদানা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘নয়া’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। নতুন বল নিয়ে পেস ও সুইং সহযোগে বেশ চমৎকার দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কার অনুপযোগী পিচেও বলকে সুইং করানোয় সক্ষমতা…

  • | |

    মাইকেল স্লেটার

    ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়াগা ওয়াগায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ‘স্ল্যাটস’ ডাকনামে পরিচিত মাইকেল স্ল্যাটার আগ্রাসী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে সম্যক পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাঁর পরিবার ক্রিকেটের সাথে জড়িত ছিল। ফলশ্রুতিতে, খুব ছোটবেলা থেকেই এ খেলায়…

  • | | | |

    কৃষ শ্রীকান্ত

    ২১ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ভারত ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যুৎ প্রকৌশলী হিসেবে শিক্ষালাভ করেন। চেন্নাইভিত্তিক গুইন্ডির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন তিনি। সহজাত প্রকৃতির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও অতিদ্রুততার সাথে ভারসাম্য বজায়…

  • | | |

    জ্যাক ক্যালিস

    ১৬ অক্টোবর, ১৯৭৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পাইনল্যান্ডস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়াসহ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। হেনরি ক্যালিস ও মার্সিয়া ক্যালিস দম্পতির সন্তান ছিলেন। ওয়েনবার্গ বয়েজ…

  • |

    জিমি ব্লাঙ্কেনবার্গ

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৯৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন খেলা উপহারের দিকে সবিশেষ নজর রাখতেন। অবিরাম বোলিং করতে পারতেন। ম্যাটিং উইকেটে বেশ কার্যকর বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ…