|

ক্রিস মরিস

৩০ এপ্রিল, ১৯৮৭ তারিখে ট্রান্সভালের প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবেই দলে অধিক ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বেশ দেরীতে খেলার জগতে প্রবেশ করেন। ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে লায়ন্স ও টাইটান্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার ও সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, দিল্লি ক্যাপিটালস, নেলসন ম্যান্ডেলা বে জায়ান্টস, নর্থ ওয়েস্ট, রাজস্থান রয়্যালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সেন্ট কিটস ও নেভিস প্যাট্রিয়টস, সিডনি থান্ডারের পক্ষে খেলেছেন।

২২ বছর বয়সে ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে পচেফস্ট্রুমে নর্থ ওয়েস্ট বনাম এস ওয়েস্ট ডি’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১২ সালের ঘরোয়া আসরে অসাধারণ খেলেন। ১২ খেলা থেকে ২১ উইকেট পান। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রায় ২০০ স্ট্রাইক-রেটে রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, বিশের মাঝামাঝি বয়সে এসে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণে ত্রি-দেশীয় অনানুষ্ঠানিক সিরিজে ১৫-সদস্যের দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে যুক্ত হন।

লায়ন্সের উত্তরণে বিরাট ভূমিকা রাখেন। নিজ দেশে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ প্রতিযোগিতায় টি২০ দলের সদস্যরূপে খেলেন। ঐ বছরের শেষদিকে তাঁকে টি২০আই দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। টি২০ ক্রিকেটে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর দেন।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ৪২টি ওডিআই ও ২৩টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২১ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় ২ উইকেট পেয়েছিলেন।

পরের বছর আইপিএল নিলামে অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড় হিসেবে তিনি চিত্রিত হন। ২০১৩ সালের আইপিএল নিলামে $৬২৫,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন। আইপিএলের ষষ্ঠ আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের সদস্যরূপে দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যেতে বিরাট ভূমিকা রাখেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৫০ ও ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বেন স্টোকসের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও প্রথম টেস্টে পরাজয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

২০১৭ সালে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ জুলাই, ২০১৭ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ২৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯১ ও ২/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। বেন স্টোকসের অসাধারণ অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ২৩৯ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১১ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট