১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে গায়ানার জর্জটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘কার্ল’ ডাকনামে ভূষিত কার্ল লুইস ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। উইলসডেন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। শৈশবকালে পরিবারের সাথে ইংল্যান্ডে চলে যান ও ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বড় হন। ১৯৮৭ থেকে ২০০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৭ সালে লিচেস্টারশায়ারে যোগ দেন ও ঐ বছরের জুন মাসে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে গমনার্থে তাঁকে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, আঘাতের কারণে প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি। এর পরিবর্তে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ঠাঁই পান।
১৯৯২ সালকে ঘিরে নটিংহ্যামশায়ারে চুক্তিতে আবদ্ধ হলে কাউন্টিতে বড় ধরনের সাড়া জাগান। এ পর্যায়ে তিনি ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝারিসারিতে মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এক পর্যায়ে দৃশ্যতঃ তাঁকে ‘পরবর্তী ইয়ান বোথাম’ হিসেবে বিবেচনায় আনা হতো। এপ্রিল, ১৯৯২ সালে নটসের পক্ষে সানডে লীগ ও কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ – উভয় স্তরের ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। চ্যাম্পিয়নশীপের নিজস্ব দ্বিতীয় খেলায় অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে অগ্রসর হন। অপরাজিত ১৩৪ রান সংগ্রহের পাশাপাশি পাঁচ-উইকেট দখল করেন। ঐ মৌসুমের শেষদিকে নটসের সদস্যরূপে সারের বিপক্ষে নিজস্ব সেরা ৬/৯০ লাভ করেন। সফলতার সাথে নটসের পক্ষে প্রথম মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর বোলিং গড়ে শীর্ষে ও ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।
১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৩২ টেস্ট ও ৫৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯৯০ সালে নিজ দেশে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৫ জুলাই, ১৯৯০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩২ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৫১ ও ৩/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভন ম্যালকমের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১১৪ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৮ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৯ ও ২/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ফিল টাফনেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৩ ও ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৩১ ও ২/৮৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলীয় অধিনায়ক গ্রাহাম গুচের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৬৮ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার আরও প্রত্যাশা নিয়ে ১৯৯১ মৌসুম শেষে গ্রেস রোড থেকে চলে আসেন। নটিংহ্যামশায়ারের সাথে চুক্তিতে উপনীতকালীন সাত টেস্ট ও ১৪ ওডিআই খেলেছিলেন। ট্রেন্ট ব্রিজে যুক্ত হবার অল্প পূর্বে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, মেলবোর্নে চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
১৯৯৬ সালে নিজ দেশে ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। প্রথম ইনিংসে তিনি ০/১১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। মুশতাক আহমেদের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
মাদক চোরাচালানের দায়ে অভিযুক্ত হন।
