১০ মে, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত তিনি। অনেকাংশে সীমিত-ওভারের উপযোগী ছিলেন। মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতেন। অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও দারুণ ছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৮৮ থেকে ১৯৮৯ সময়কালে সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও ১৬টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কোন ইনিংসেই অর্ধ-শতক কিংবা তিন-উইকেট লাভ করতে পারেননি।
১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে জন রাইটের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে ভারত সফরে যান। ১২ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম দিনে নিজস্ব ত্রয়োদশ বলে ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। অরুণ লালের ব্যাটের প্রান্ত স্পর্শ করে তৃতীয় স্লিপে আসা নিচু ক্যাচ তালুবন্দী করলে ইয়ান বোথামের ৩৭৩ উইকেট লাভের বিশ্বরেকর্ডধারী রিচার্ড হ্যাডলি’র কৃতিত্বের সাথে নিজেকে যুক্ত করে নেন। একটি ক্যাচ তালুবন্দী করলেও উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড় সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২ ডিসেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১৩ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টে তিনি একটি উইকেটের সন্ধান পান এবং ০, ০, ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৭.৫৫ গড়ে ৩৭৪৭ রান ও ৪২.৭৩ গড়ে ৫৭ উইকেট দখল করেছিলেন। এককথায় ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর মাঝে গুণাবলী ছিল না। তবে, নেতৃত্বের গুণাবলী ছিল। ক্রিকেটার হিসেবে তেমন সফলতা না পেলেও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ভারত সফরের পর ঘরোয়া আসরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সাড়া জাগান। ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে নেলসনে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে ১২ চার ও ৫ ছক্কা সহযোগে ৮৯ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের সংগ্রহ ছিল ১৩৪ রান। পরের মৌসুমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের শেষ খেলায় অংশ নেন। বেসিন রিজার্ভে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ৫ রান তুলেছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯৯৮ সালে ম্যাক্স লীগের শিরোপা বিজয়ে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের কোচ হিসেবে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, দলটি শেল কাপে রানার্স-আপ হয়। এরপর, দল ত্যাগ করে ২০০১ সালে হ্যামিল্টন বয়েজ হাই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ও দুইবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা এনে দেন। এছাড়াও, ২৮ জুলাই, ২০০৯ তারিখে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। তিনি ব্যাটিংয়ে দক্ষ মার্ক ও’নীলের স্থলাভিষিক্ত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান স্কট কাগেলিনকে চার বছর বয়স থেকে হাতেখড়ি ঘটান। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ওয়েলিংটন ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট, নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেট ও নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে টেস্ট খেলেছে। তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র থমাস সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সদস্য।
