|

ক্রিস জর্ডান

৪ অক্টোবর, ১৯৮৮ তারিখে বার্বাডোসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনের অগ্রসর হন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘সিজে’ ডাকনামে ভূষিত ক্রিস জর্ডান ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ক্রীড়া বৃত্তি নিয়ে ডালউইচ কলেজে ভর্তি হন। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স ও সারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স, সিডনি থান্ডার, বার্বাডোস, ইংল্যান্ড লায়ন্স, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচী কিংস, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, পার্থ স্কর্চার্স, পেশাওয়ার জালমি, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৮ বছর বয়সে ২০০৭ সালে সারে দলের সদস্যরূপে মিডলসেক্সের বিপক্ষে খেলেন। ৮০-এর মাঝামাঝি গতিতে বোলিং করে থাকেন। ২০০৭ সালে সারের সর্বাপেক্ষা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন। ২০১২ মৌসুম শেষে সারে দল থেকে ছাড়পত্র পাবার পর থেকে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের বাঁক ঘুরে যায়। এরপর, সাসেক্সে চলে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিরাট প্রভাব ফেলেন ও দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন।

সারের সদস্যরূপে কেন্টের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। এরপর, বার্বাডোসে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ছয়-উইকেট লাভের ফলে ইংল্যান্ডে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ – উভয় দলের পক্ষে খেলার যোগ্যতা লাভের অধিকারী তিনি। মাতৃসম্পর্কীয় সম্পর্ক থাকায় ইংল্যান্ডের পক্ষেই খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৩ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০১৩ সালে নিজ দেশে অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ-ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুন, ২০১৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্যাম রবসন ও মঈন আলী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৩/১০২ ও ২/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, জো রুটের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

ঐ বছর পুরোটা সময় জুড়েই সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে আরোহণ করেন। তন্মধ্যে, ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫/২৯ লাভ করেন। এরফলে, নভেম্বর, ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে তাঁকে ইংরেজ দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ঐ সিরিজে পাঁচটি খেলায় অংশ নিয়ে ১০ উইকেট পান।

২০১৪-১৫ মৌসুমে দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। এপ্রিল, ২০১৫ সালে স্লিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ক্যাচ তালুবন্দী করে সকলকে বিমোহিত করেন। এছাড়াও, তিন খেলা থেকে ছয় উইকেট পেয়েছিলেন। বিবিএলের ষষ্ঠ আসরকে ঘিরে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সে যুক্ত হন।

২০১৫ সালে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১ মে, ২০১৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ২ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ ও ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জার্মেইন ব্ল্যাকউডের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজ ড্র করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০২০-২১ মৌসুমে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত খেলায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি২০আইয়ে অংশ নেন। কুইন্টন ডি কককে বিদেয় করে টি২০আইয়ে ইংল্যান্ডের সর্বাধিক উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন।

Similar Posts

  • | | |

    ব্যারি রিচার্ডস

    ২১ জুলাই, ১৯৪৫ তারিখে নাটালের মর্নিংসাইড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে…

  • |

    মিচেল স্টার্ক

    ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বকহাম হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। ১.৯৬ মিটার দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে গ্লাভস পরিধান করা থেকে বিরত থাকেন…

  • | |

    ধনঞ্জয় ডি সিলভা

    ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কৌশলগতভাবে শীর্ষসারির, সঠিকমানসম্পন্ন আক্রমণধর্মী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। ব্যাটিং…

  • |

    হেমন্ত কানিতকর

    ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪২ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন ও প্রয়োজনে স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে সরব উপস্থিতি প্রদর্শন করতেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। বেশ সাহসী ছিলেন। কখনো…

  • |

    জেফ নবলেট

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১৬ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পার্কসাইড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন। উভয়দিক দিয়েই বলকে ঘুরাতে পারতেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম…

  • | |

    পার্সি টোয়েন্টিম্যান-জোন্স

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ তারিখে কেপ কলোনির বিউফোর্ট ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ১৯০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নভেম্বর, ১৯০২…